কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পে রাতের খাবার খাওয়ার পরপরই ক্যাম্প ইনচার্জসহ ১০ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে খাবার গ্রহণের অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা সংজ্ঞাহীন ও নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মধ্যরাতে তাঁদের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা প্রতিদিনের মতো নৈশভোজে বসেন। রাতের খাবারের তালিকায় ছিল রান্না করা মুরগির মাংস, আলু ও ভাত। কিন্তু খাবার গ্রহণের মাত্র ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে উপস্থিত সদস্যদের শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং একে একে সবাই অবচেতন হয়ে ঢলে পড়েন। ঘটনার বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে অসুস্থ সব সদস্যকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাটিকাবাড়ী ক্যাম্প ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান ঘটনার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে জানান, "রাতে ক্যাম্পে রান্না করা মুরগির মাংস ও আলু দিয়ে ভাত খাওয়ার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই সবার মধ্যে বিষক্রিয়ার মতো তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। দেখতে দেখতেই সবাই ঢলে পড়েন।"
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন—এসআই কফিল, এসআই আমিনুর, এসআই মুক্তার, এসআই শরিফুল, এসআই কামরুজ্জামান এবং পুলিশ কনস্টেবল রেজাউল, মনিরুল, আমিনুল ও নজরুল।
একটি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জসহ একসাথে ১০ জন সদস্য নৈশভোজের পর আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যান কুষ্টিয়ার জেলা পুলিশ প্রধান। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম নিজে পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং রান্নার স্থান, ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রী ও সামগ্রিক আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মামুনুর রশীদ জানান, "সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমরা পাটিকাবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পে পৌঁছাই। খাবারের সাথে কোনো ধরনের বিষাক্ত বস্তু মেশানো হয়েছিল নাকি এটি ফুড পয়জনিং, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
ডিআর




Comments