Image description

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভূইয়াগাঁতী-ধানঘড়া আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজের টেন্ডার হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ। অন্যদিকে রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানঘড়া সেন্টার পয়েন্ট থেকে পল্লী বিদ্যুৎ মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশও দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে।

ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তগুলো পানিতে ভরে যাওয়ায় বেড়ে যায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

ভূইয়াগাঁতী-ধানঘড়া আঞ্চলিক সড়কটি রায়গঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এ সড়ক দিয়ে উপজেলা পরিষদ, রায়গঞ্জ থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন যাতায়াত করেন হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় সড়কটির বিভিন্ন অংশ এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে ইটের খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় কোথাও খোয়া সরে গিয়ে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও সড়ক অসমতল হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে যায়। এতে ইজিবাইক, অটোরিকশা, রিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় ইজিবাইকচালক মজিদ মিয়া বলেন, “এই সড়কে চলাচলের সময় সবসময় দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। সামান্য অসাবধান হলেই গাড়ি উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”

অটোরিকশাচালক মানিক আহমেদ বলেন, “প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। বৃষ্টি হলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন চলাচল করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।”

তেলিজানা আলিম সিনিয়র মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, “এটি এলাকার প্রধান যোগাযোগ সড়ক। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও রোগীদেরও ভোগান্তি হচ্ছে। অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে বেশি কষ্ট হয়।”

অন্যদিকে রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানঘড়া সেন্টার পয়েন্ট থেকে পল্লী বিদ্যুৎ মোড় পর্যন্ত প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশের অবস্থাও নাজুক। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে যায়। এতে গর্তের গভীরতা বোঝা না যাওয়ায় যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। ব্যস্ত সময়ে সড়কের কিছু অংশে যানজটও সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার্থী সীমান্ত তালুকদার বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করি। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্ত থাকায় হাঁটা ও যানবাহনে চলাচলে সমস্যা হয়। বৃষ্টি হলে পানি জমে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।”

স্থানীয় বাসিন্দা আশিকুর রহমান প্লাবন বলেন, “অনেক দিন ধরে সড়কটির এই অবস্থা। প্রতিদিনই মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা দরকার।”

অটোরিকশাচালক সামাদ শেখ বলেন, “গর্তের কারণে গাড়ি চালাতে খুব সমস্যা হয়। অনেক সময় সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাকা গর্তে পড়ে গাড়ি কাত হয়ে যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভূইয়াগাঁতী-ধানঘড়া আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজের টেন্ডার হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির ঘাটতির কারণেই কাজ থমকে আছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

এলাকাবাসীর দাবি, দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করতে হবে। পাশাপাশি সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ গর্তগুলো সাময়িকভাবে মেরামত এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমান বলেন, “রাস্তা দুটির অবস্থা খুবই নাজুক। খুব শিগগিরই রাস্তা দুটির সংস্কারকাজ করা হবে।”

এসএ