মিঠাপুকুরে গাছের ডালে ঝুলন্ত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য
রংপুরের মিঠাপুকুরে গাছের ডালের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ফিরোজ মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের গাছুয়া পাড়া গ্রামের একটি বাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ফিরোজের মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত ফিরোজ মিয়া ওই গ্রামের মৃত আফসার উদ্দিনের ছেলে। প্রায় ১০-১২ বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন ফিরোজ। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
বৃহস্পতিবার সকালে ফজরের নামাজের পর স্থানীয় বাসিন্দা সরোয়ার হোসেন বাড়ির আশপাশে হাঁটাহাঁটি করার সময় একটি বাগানে ফিরোজকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
সরোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ফিরোজকে গাছের ডালের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় মরদেহের পা মাটির সঙ্গে লাগানো ছিল এবং পায়ে রক্তক্ষরণের চিহ্নও দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি। এসব বিষয় তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
নিহতের মা ছালেহা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রাতে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তার ছেলে আর ফেরেনি। সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। এ দৃশ্য দেখে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তার দাবি, ফিরোজকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ফিরোজ শান্ত স্বভাবের ছিলেন। তার সঙ্গে কারও বড় ধরনের বিরোধ ছিল বলে তারা জানেন না। তিনি নিয়মিত বাতাসন হাটবাজারে যাতায়াত করতেন। ঘটনার আগের রাতেও তাকে স্থানীয় বাতাসন হাটবাজারের একটি চায়ের দোকানে দেখা গেছে বলে দাবি করেন কয়েকজন।
এদিকে, মরদেহের অবস্থান ও পায়ে রক্তক্ষরণের বিষয় উল্লেখ করে স্থানীয়দের কেউ কেউ ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বলে মনে করছেন। একই সঙ্গে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের উৎপাত বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। ফিরোজ মাদকসংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডে বাধা দিয়ে থাকলে তার জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে—এমন ধারণাও কেউ কেউ প্রকাশ করেছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর সত্যতাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এসএ




Comments