বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পাঁচ দিন পর কুমিল্লার লালমাই উপজেলার এক ধানখেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রীর গলায় গামছা পেঁচানো ও বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের শেষ মুহূর্তে বাবার মুঠোফোনে নিজের 'লাইভ লোকেশন' ও খুদে বার্তা পাঠিয়েছিল ওই কিশোরী। এ ঘটনায় লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ভোরে লালমাই উপজেলার জগৎপুর মাইনি মুড়া জঙ্গল এলাকার একটি ধানখেত থেকে কিশোরীর মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা আব্দুল আলিমের মেয়ে। পরিবারসহ তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত এবং তাজমিন ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে রেসকোর্সের বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। পরে সেখান থেকে সে কক্সবাজার যায়। বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় সে। রাত দেড়টার দিকে তাজমিন তার বাবার মোবাইলে লাইভ লোকেশন ও একটি বার্তা পাঠায়। তবে রাতে ঘুমে থাকায় বার্তাটি দেখতে পাননি তার বাবা। পরদিন সকালে মেসেজ ও লোকেশন ট্রেস করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
ঘটনাস্থলের প্রাথমিক বর্ণনায় জানা যায়, নিহতের দেহ যেখানে পাওয়া গেছে, তার আশপাশের ৪-৫টি ধানখেতে ব্যাপক ধস্তাধস্তির স্পষ্ট আলামত রয়েছে। মরদেহ থেকে কিছুটা দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ এবং একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। নিহত তাজমিনের মাথায় কাদা মাখানো, গলায় গামছা পেঁচানো এবং শরীর বিবস্ত্র অবস্থায় ছিল। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (০৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার নূরজাহান হোটেলের সামনে কক্সবাজার থেকে আসা আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামে তাজমিন। সেখানে সে একটি স্টেশনারি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলে এবং রাত সোয়া ১২টার দিকে নূরজাহান এলাকা ত্যাগ করে।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ও কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ ফেরদৌস জানান, হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ ও নেপথ্য রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে পুলিশের একাধিক টিম। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দেন তারা।
ডিআর




Comments