Image description

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মাত্র আড়াই বছরের শিশু ওয়াসকুরুনিকে বিষ খাইয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সৎ মা আকলিমা আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শিশুটি অতিরিক্ত কান্না ও ‘ঘ্যানর ঘ্যানর’ করার কারণে তাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জবানবন্দিতে অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার তমার আদালতে হাজির করা হলে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি দেন আকলিমা। ঘটনায় অভিযুক্ত শিশুটির বাবা আব্দুল কাদিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছে গৌরীপুর থানা পুলিশ। আগামী রবিবার (১১ অক্টোবর) রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বীরপুর দত্তবাড়ি গ্রামে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন দুপুরে আকলিমা শিশু ওয়াসকুরুনিকে ডিম ও পানি খাওয়ানোর পর গোসল করিয়ে ঘুমাতে নিয়ে যান। এ সময় শিশুটি প্রচণ্ড কাশতে শুরু করলে দাদী আছিয়া আক্তার ঘরে ঢুকে শিশুটির মুখে বিষের বিশ্রী গন্ধ পান। দ্রুত তাকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর বুধবার নিহত শিশুটির গর্ভধারিণী মা মোছা. শেফালী আক্তার বাদী হয়ে প্রাক্তন স্বামী আব্দুল কাদির ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ বীরপুর দত্তবাড়ি গ্রামে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করে এবং মামলা নথিভুক্তির পর শুক্রবার তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের শেফালী আক্তারের সঙ্গে বিয়ের পর কাদিরের দুই সন্তান জয়নাল আবেদীন (৮) ও ওয়াসকুরুনি (২.৫) জন্ম নেয়। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে আকলিমার সাথে পরকীয়া প্রেমের জেরে শেফালীকে তালাক দেন কাদির। বিবাহবিচ্ছেদের এক সপ্তাহের মাথায় কাদির আকলিমাকে বিয়ে করে দুই সন্তানসহ একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

সন্তানহারা মা শেফালী আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আকলিমার সঙ্গে পরকীয়ার কারণেই আমাকে তালাক দিয়েছিল কাদির। এরপর আমার নিষ্পাপ ছোট ছেলেটাকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলল। আমাকে কিছু না জানিয়ে সৎ মাকে আসল মা সাজিয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। আমি আমার সন্তান হত্যার সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, নিহত শিশু ওয়াসকুরুনির মায়ের অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ অভিযুক্ত সৎ মা ও বাবা আব্দুল কাদিরকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার তাদের দুজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। সৎ মা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আব্দুল কাদিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে সৎ মা ও বাবা কাদিরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

ডিআর