Image description

চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দেশে ২৪০ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৫১ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে তিনজনকে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অক্টোবর মাসের নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত রোববার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানুর স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে ধর্ষণ, হত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা, যৌন নিপীড়ন, অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে বিভিন্ন কারণে ৪২ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ২৮ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে এবং ২৩ জন আত্মহত্যা করেছেন।

ধর্ষণের শিকার ৫১ জনের মধ্যে ৩৪ জন কন্যাশিশু ও ১৭ জন নারী। তাদের মধ্যে ছয় কন্যাশিশুসহ ১৬ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে দুই কন্যাশিশুসহ তিনজনকে। এ ছাড়া ১৭ কন্যাশিশুসহ ২১ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

হত্যার শিকার ৪২ জনের মধ্যে সাতজন কন্যাশিশু ও ৩৫ জন নারী। রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে পাঁচ কন্যাশিশুসহ ২৮ জনের। আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ছয়জন কন্যাশিশু ও ১৭ জন নারী। এ ছাড়া দুই কন্যাশিশুসহ সাতজন আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হয়েছেন।

প্রতিবেদনে যৌন সহিংসতার চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। অক্টোবর মাসে ১৫ কন্যাশিশুসহ ২১ জন নারী ও শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে সাত কন্যাশিশুসহ নয়জন যৌন নিপীড়নের শিকার এবং একই সংখ্যক নারী ও শিশু উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন। সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন এক কন্যাশিশুসহ তিনজন।

এ ছাড়া একজন অ্যাসিডদগ্ধ এবং তিন কন্যাশিশুসহ চারজন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাতজন নারী। তাদের মধ্যে ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছে।

অক্টোবরে ছয় কন্যাশিশু অপহরণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে নয় কন্যাশিশুসহ ২১ জনকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। পাচারের শিকার হয়েছেন এক কন্যাশিশুসহ দুজন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলেছে, দেশে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।