বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রভাবে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিতে শুরু করায় বুধবার (৭ জানুয়ারি) মূল্যবান এই ধাতুগুলোর দাম কমেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৬১.৫১ ডলারে নেমে এসেছে। অথচ গত ২৬ ডিসেম্বর স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৪ হাজার ৫৪৯.৭১ ডলারে পৌঁছেছিল। এছাড়া ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ০.৫ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৪৭১.৩০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার দামও ২.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৯.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্লাটিনাম ৬ শতাংশ এবং প্যালাডিয়াম ৪.৫ শতাংশ কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মান দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার আটকে থাকা ৫ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রির পরিকল্পনার কথা জানানোয় বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা অস্থির বাজারে ঝুঁকি না নিয়ে মুনাফা তুলে নেওয়াকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর বিষয়ে অস্পষ্টতাও বাজারে প্রভাব ফেলেছে। যদিও ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর দুই দফায় সুদহার কমানো হতে পারে, তবে ফেড কর্মকর্তাদের মিশ্র বক্তব্যে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে বর্তমানে স্বর্ণের দাম আকাশছোঁয়া। বাংলাদেশে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের বর্তমান দর:
২২ ক্যারেট: ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা।
২১ ক্যারেট: ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা।
১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেশের বাজারে প্রভাব ফেলবে কি না, তা নির্ভর করবে স্থানীয় জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments