Image description

একসময় হৃত্বিক রোশনের বাবার ঘরভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। সেই অর্থকষ্টের দিন পেরিয়ে এখন ভারতের ধনী অভিনেতাদের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন তিনি।

Hurun India Rich List 2026 অনুযায়ী, হৃত্বিকের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তার সম্পদের হিসাবে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক বিভিন্ন উদ্যোগ ও HRX ব্র্যান্ডের আয়ও রয়েছে।

হৃত্বিকের পরিবারে আর্থিক সংকট তৈরি হয় ১৯৯৭ সালে ‘কয়লা’ সিনেমার পর। সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন তার বাবা রাকেশ রোশন।

পুরোনো এক সাক্ষাৎকারে হৃতিক জানান, সিনেমাটির পর তার বাবা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। সেই সময় বাবাকে কাঁদতেও দেখেছিলেন তিনি।
২০০৬ সালে সিমি গারেওয়ালের অনুষ্ঠানে নিজের শৈশবের সেই সময়ের কথা বলেন হৃত্বিক। তিনি জানান, একপর্যায়ে পরিবারের বাড়িভাড়া দেওয়ার মতো অর্থও ছিল না।

পরিস্থিতির কারণে তার মা পিঙ্কি রোশন হৃতিক ও তার বোনকে নানাবাড়িতে নিয়ে যান। রাকেশ তখন তার মায়ের সঙ্গে থাকতেন।

পরে পরিবার একটি বাড়িতে ওঠে। হৃত্বিকের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে সেখানে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও ছিল না। দেয়াল ও মেঝে ছাড়া বাড়িতে তেমন কিছুই ছিল না।

পরিবারের সদস্যরা মেঝের চাটাইয়ে ঘুমাতেন। সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে বাড়িতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যোগ করা হয়।

এরপর ছেলেকে নায়ক হিসেবে বলিউডে আনার সিদ্ধান্ত নেন রাকেশ। ২০০০ সালে মুক্তি পায় হৃত্বিকের প্রথম সিনেমা ‘কাহো না... পেয়ার হ্যায়’। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আমিশা প্যাটেল। সিনেমাটি বড় সাফল্য পেলে রাতারাতি পরিচিতি পান হৃত্বিক।

ছেলের অভিষেকের জন্য রাকেশও বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন। নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সিনেমাটি শেষ করতে তিনি বাড়ি ও গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। সিনেমাটি সফল না হলে তাকে আরো বড় আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হতো বলেও জানান তিনি।

‘কাহো না... পেয়ার হ্যায়’-এর সাফল্যের পর হৃত্বিক একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। পাশাপাশি অভিনয়ের বাইরে ব্যবসায়ও যুক্ত হন তিনি। তার ফিটনেস ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড HRX পরবর্তী সময়ে তার ব্যবসায়িক পরিচয়ের অন্যতম অংশ হয়ে ওঠে।
এমআর