টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা ঘটনা সামনে এনেছেন অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর প্রসেনজিৎ নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। বেশ কিছুদিন কাজও করেননি। সেই সময় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। সম্প্রতি প্রসেনজিতের জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান চিরঞ্জিত।
চিরঞ্জিত বলেন, বর্তমানের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ তার কাছে আজও সেই ছোট্ট ‘বুম্বা’। শৈশব থেকেই প্রসেনজিতের সঙ্গে তার পরিচয়। অভিনেতা হিসেবে প্রসেনজিতের উত্থান, সংগ্রাম, ব্যক্তিজীবনের নানা পর্যায় এবং সাফল্যের দীর্ঘ পথচলার সাক্ষী তিনি।
প্রসেনজিতের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিচারণা করে চিরঞ্জিত জানান, তখন প্রসেনজিৎ ও তার বোন পল্লবী বেশ ছোট। বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় তখন মুম্বাইয়ে থাকতেন। নাগেরবাজারে প্রসেনজিতের দাদুর বাগানবাড়িতে তাদের বসবাস ছিল। নিজের প্রথম চিত্রনাট্য ‘মানুষের নাম ঈশ্বর’ নিয়ে বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে যাওয়ার সময়ই ছোট্ট বুম্বার সঙ্গে পরিচয় হয় তার।
চিরঞ্জিত বলেন, প্রথমে মহানায়ক উত্তম কুমারকে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সময়সূচি নিয়ে প্রযোজকদের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে যান তিনি। সেখানেই প্রসেনজিৎ ও পল্লবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
পরবর্তী সময়ে ‘শত্রু’ সিনেমার শুটিংয়ে আবারও প্রসেনজিতের সঙ্গে দেখা হয় তার। তখন প্রসেনজিৎ অভিনয়জগতে নিজের জায়গা তৈরির চেষ্টা করছেন। ওই সিনেমায় ছোট একটি নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।
সেই সময়ের একটি মজার স্মৃতিও তুলে ধরেন চিরঞ্জিত। বোলপুরে শুটিং চলাকালে কয়েকজন স্কুলছাত্রী তার অটোগ্রাফ নিতে এলে কলমে কালি না থাকায় প্রসেনজিৎ দ্রুত পাঁচিল টপকে নতুন কলম আনতে গিয়েছিলেন। সেই কলম এনে চিরঞ্জিতের হাতে তুলে দেন তিনি। অভিনেতার ভাষায়, প্রসেনজিতের এই আন্তরিকতার কথা তিনি আজও ভুলতে পারেননি।
চিরঞ্জিত জানান, দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তাদের মধ্যে কখনো ব্যক্তিগত বিরোধ তৈরি হয়নি। পর্দায় প্রতিযোগিতা থাকলেও পর্দার বাইরে তাদের সম্পর্ক সব সময়ই আন্তরিক। প্রসেনজিতের সংগ্রাম থেকে শুরু করে টালিউডের গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা হয়ে ওঠার পুরো যাত্রার সাক্ষী তিনি।
প্রসেনজিতের কর্মনিষ্ঠার প্রশংসা করে চিরঞ্জিত বলেন, তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলাতে জানেন। বর্তমানে কঠোর নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে জীবনযাপন করেন প্রসেনজিৎ। সম্প্রতি ‘বিজয়নগরের হীরে’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও ভালো ছিল বলে জানান তিনি।
অভিনেতা আরও জানান, মুম্বাইয়ে শুটিংয়ের সময় প্রসেনজিতের ফ্ল্যাটে ছিলেন তিনি। তখন লখনউকে কেন্দ্র করে লেখা নিজের একটি প্রেমের গল্প প্রসেনজিৎকে শোনান। গল্পটি তার ভালো লেগেছে। ভবিষ্যতে প্রসেনজিৎ প্রযোজনা ও অভিনয়ে রাজি হলে তাকে নিয়ে সিনেমা পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে চিরঞ্জিতের। সেখানে প্রসেনজিৎকে একজন সাংবাদিকের চরিত্রে ভাবছেন তিনি।
প্রসেনজিতের ব্যক্তিজীবন প্রসঙ্গে চিরঞ্জিত বলেন, তিনি ভালো মানুষ হলেও নিজের মনের মতো জীবনসঙ্গী হয়তো পাননি। প্রসেনজিৎ নিজেই প্রায়ই বলেন, তিনি বাবা হিসেবে ভালো, কিন্তু স্বামী হিসেবে নন।
দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর প্রসেনজিতের কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করে চিরঞ্জিত বলেন, বিচ্ছেদের পর তিনি নিজেকে একেবারে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। বেশ কিছুদিন কোনো কাজ করেননি এবং মানসিক অবসাদে ছিলেন। সেই সময় দীর্ঘ বিরতির পর চিরঞ্জিতের সঙ্গে ‘চন্দ্রগ্রহণ’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।
চিরঞ্জিত বলেন, ওই সময় প্রসেনজিৎ চুপচাপ থাকতেন, কারও সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না। দাদার মতো তাকে সাহস জুগিয়েছেন এবং জীবনের কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে সেই প্রতিকূলতা কাটিয়ে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন প্রসেনজিৎ।
তার মতে, গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘মনের মানুষ’ সিনেমায় অভিনয়ের পর প্রসেনজিতের ব্যক্তিত্বে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। অভিনয়জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনেও নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলেন তিনি।
প্রসেনজিতের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে চিরঞ্জিত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি আগামী দিনেও যেন তিনি একইভাবে এগিয়ে যান। টালিউডে প্রসেনজিতের অবদান ও অবস্থান আরও সুদৃঢ় হোক, এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
এসএস




Comments