Image description

ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৮ দিনেই জেলায় ২২৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম ১৫ দিনেই শনাক্ত হয়েছিলেন ১৯৫ জন। শেষ তিন দিনে নতুন করে আরও ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

আগস্ট মাসে ফেনীতে ১৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। ফলে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৮ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ জন বেশি হয়েছে।

১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া উপজেলা-ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ফেনী সদরে ৩১১ জন, দাগনভূঞায় ৪৫, সোনাগাজীতে ৩৯, ছাগলনাইয়ায় ২১, ফুলগাজীতে ১৩ এবং পরশুরামে ১২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

এ ছাড়া ১৫ সেপ্টেম্বরের আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হন। তাঁদের মধ্যে ফেনী সদরে ১৩ জন, সোনাগাজীতে পাঁচজন, দাগনভূঞায় একজন এবং ফুলগাজীতে দুজন রয়েছেন।

ফেনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন, নালা ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হচ্ছে। একই ধরনের ঝুঁকি এখন গ্রামাঞ্চলেও দেখা যাচ্ছে। বাড়িঘরের আশপাশ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র ও অপরিষ্কার নালায় পানি জমে থাকায় এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু মশার ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শহরের পাশাপাশি ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা না হলে ডেঙ্গুর বিস্তার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএ