চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকি মোকাবিলা এবং সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে এবার ‘রোবট কুকুর’ প্রদর্শন করেছে তাইওয়ান।
দেশটির শীর্ষ সামরিক অস্ত্র উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল চুং-শান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ (NCSIST) মঙ্গলবার তিনটি ভিন্ন সংস্করণের রোবট টহল কুকুর উন্মোচন করেছে। এগুলো ভবিষ্যতে বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত তাইওয়ানের কৌশলগত দ্বীপগুলোতে মোতায়েন করা হতে পারে।
মঙ্গলবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চারপেয়ে রোবটগুলো প্রদর্শন করা হয়। এই রোবটগুলো মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ঘোস্ট রোবোটিক্স’-এর তৈরি। তবে তাইওয়ানের সামরিক গবেষকরা এগুলোর ওপর নিজস্ব প্রযুক্তি স্থাপন করে তিনটি বিশেষ সংস্করণ তৈরি করেছেন।
সংস্করণগুলো হলো; গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং গোলাবর্ষণ। বিশেষত, গোলাবর্ষণের জন্য নির্ধারিত রোবটটির পিঠে একটি স্বয়ংক্রিয় বন্দুক স্থাপন করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ব্যবস্থা গবেষণা বিভাগের উপ-প্রধান জেন কুও-কুয়াং জানান, সেনাবাহিনী এই ধরনের উন্নত সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি (ইতু আবা) ও প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের সৈকত এবং উপকূলরেখায় টহল ও পরিদর্শনের জন্য মেরিন সেনারা এই রোবটগুলোর তীব্র প্রয়োজন অনুভব করছে। বর্তমানে শান্তিকালীন সময়ে এসব জনমানবহীন দ্বীপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী।
দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। যদিও বেইজিং সাধারণত ইতু আবা দ্বীপটিকে এড়িয়ে চলে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের কাছে চীনা উপকূলরক্ষী বাহিনীর টহল এবং ড্রোনের আনাগোনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে চাইছে তাইপেই।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুর্গম উপকূলীয় এলাকায় মানুষের পরিবর্তে এই রোবট কুকুরগুলো ব্যবহার করলে ঝুঁকির পরিমাণ কমবে এবং নজরদারি আরও নিখুঁত হবে।
যদিও সামরিক বাহিনী এখনও এই রোবটগুলোর জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো আদেশ দেয়নি, তবে পরীক্ষামূলক প্রদর্শনীটি তাইওয়ানের সামরিক আধুনিকায়নের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




Comments