Image description

ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না-এমন অঙ্গীকারসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন সমঝোতা স্মারকে একাধিক শর্ত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এখনো দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি, তবে বিষয়টি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রস্তাবিত সমঝোতায় বলা হয়েছে, ইরান তার পরিশোধিত ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করবে এবং পরমাণু কর্মসূচিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তার অংশ হিসেবে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন বিবেচনা করতে পারে—যদিও এ বিষয়ে শর্তসাপেক্ষ কাঠামো থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “এটি চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নয়। শর্ত পছন্দ না হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।” তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনো সরাসরি অর্থ দিচ্ছে না।

তিনি আভাস দেন, উপসাগরীয় দেশগুলো শর্তসাপেক্ষে ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কাঠামো “শক্তিশালী অগ্রগতি” হলেও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে সেনা উপস্থিতি কমাতে পারে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সমঝোতার খসড়ায় লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিতও রয়েছে এবং পারস্পরিক আঞ্চলিক অখণ্ডতা সম্মান করার কথা বলা হয়েছে।

তবে মার্কিন প্রশাসনের একাংশ দাবি করেছে, প্রকাশিত সব শর্ত চূড়ান্ত চুক্তির সঙ্গে পুরোপুরি মিল নাও থাকতে পারে। দুই দেশই বিষয়টি নিয়ে এখনো গোপনীয়তা বজায় রেখে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের বড় ধরনের মোড় ঘোরাতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।