ভারত সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় চীনের তৈরি প্রায় ২৫০টি এসএইচ-১৫ (SH-15) স্বয়ংক্রিয় কামান মোতায়েন করেছে পাকিস্তান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চীন-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু নতুন অস্ত্র মোতায়েন নয়; বরং চীনের সহায়তায় পাকিস্তানের সামরিক আধুনিকায়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ২০১৯ সালে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নরিনকো (NORINCO)-র সঙ্গে প্রায় ২৩৬টি SH-15 কামান কেনার চুক্তি করে। ২০২২ সালে সরবরাহ শুরু হয়ে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তা চলে। চুক্তিতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের ব্যবস্থাও ছিল, ফলে পাকিস্তানের হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ ট্যাক্সিলায় এসব কামান স্থানীয়ভাবে সংযোজনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, SH-15 একটি ১৫৫ মিলিমিটার স্বয়ংচালিত কামান, যা দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে গোলাবর্ষণ করতে পারে। প্রচলিত গোলাবারুদে এর পাল্লা ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার এবং বিশেষ গোলাবারুদ ব্যবহার করলে ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে আঘাত হানতে সক্ষম।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুজরানওয়ালা, শিয়ালকোট, জালালপুর জাট্টান, উত্তর পাঞ্জাব এবং নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় এসব কামান মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন ভারত-পাকিস্তানের সামরিক ভারসাম্যে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তন না আনলেও পাকিস্তানের দীর্ঘপাল্লার গোলাবর্ষণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাড়াবে। এতে সীমান্তে উত্তেজনার সময় উভয় পক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমে যেতে পারে এবং ভুল হিসাবের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
তাদের মতে, SH-15 মোতায়েন চীন-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। বর্তমানে পাকিস্তানের বড় ধরনের অস্ত্র আমদানির বেশিরভাগই চীন থেকে আসে। যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, পাকিস্তান তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি পাচ্ছে। অন্যদিকে, চীন পাকিস্তানকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ব্যবহার করার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বাস্তব কার্যকারিতা মূল্যায়নের সুযোগও পাচ্ছে।




Comments