ইসরায়েলকে 'অবৈধ' রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশটি মুসলিম বিশ্বের জন্য বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। একইসঙ্গে ইসরায়েলকে মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সামরিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার ঠিক একদিন পরই দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন খাজা আসিফ।
সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, "ইসরায়েলের বিষয়ে সব মুসলিম দেশকে এখন ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে। এ নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। ইসরায়েল মূলত বেলফোর ঘোষণার ফসল এবং ১৯৪০-এর দশকে একটি অবৈধ রাষ্ট্র হিসেবে এর জন্ম হয়েছে। এই অঞ্চলের যেকোনো দেশের জন্যই তারা এখন সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হেরে গেলেও ইসরায়েলের প্রতি পাকিস্তানের মনোভাব বদলাবে না। তাঁর মতে, জেরুজালেমের ক্ষমতায় নেতানিয়াহু থাকুন বা নাফতালি বেনেট আসুক—সবার ইসলাম-বিদ্বেষী মানসিকতা একই রকম।
খাজা আসিফ আরও বলেন, "তারা প্রতিনিয়ত মুসলিম দেশগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে। ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গোটা ইসলামি বিশ্বকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে।"
এর আগেও খাজা আসিফ ইসরায়েলকে 'মানবতার জন্য অভিশাপ' এবং 'ক্যানসার-আক্রান্ত রাষ্ট্র' বলে কড়া সমালোচনা করেছিলেন। পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। পাকিস্তান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।
এদিকে, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শনিবার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি কৌশলগতভাবে অনেকটা ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো। অর্থাৎ, এই তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা বাকি দুটির ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং দেশগুলো একে অপরকে সামরিক সহায়তা দেবে।
আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান আরও জানান, এই জোটের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সৌদি আরবে একটি জেনারেল সেক্রেটারিয়েট গঠন করা হবে। এছাড়া খুব শিগগিরই মিসরও এই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিআর




Comments