Image description

কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনে দাঁড়িয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির এই ঘটনায় দেশজুড়ে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার। সোমবার (১০ আগস্ট) এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলাদো দে লা এসপ্রিয়েলা এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

প্রেসিডেন্ট আবেলাদো জানিয়েছেন, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ভূমিকম্পের তীব্রতায় ৬১টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং ১ হাজার ৫৭৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিস অব কলম্বিয়া’ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত জনবল, ত্রাণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম পাঠানো দ্রুত ও সহজ হবে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, সোমবার রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার পৌরসভার কাছে ভূপৃষ্ঠের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। শুরুতে নিহতের সংখ্যা ৪৭ জন বলে জানানো হলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা শতাধিক ছাড়িয়ে যায়। শহরভিত্তিক তথ্যানুযায়ী, পেরেইরা শহরে ১৮ জন, মানিজালেস শহরে দুজন এবং ভ্যালে দে কাউকায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ভূমিকম্পের সময় রাজধানী বোগোটাতেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। এএফপির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, আতঙ্কে বোগোটার বিভিন্ন উঁচু ভবন থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চোকো প্রদেশের গভর্নর নুবিয়া কর্ডোবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বলেন, ‘আমরা চোকো বিভাগে একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প অনুভব করেছি। বর্তমানে আমরা পরবর্তী আফটারশক বা উত্তরকম্পন নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।’ তিনি আরও জানান, প্রদেশের রাজধানী কুইবদোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুনের শেষের দিকে প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে ৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ভয়াবহ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কলম্বিয়ায় এই বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটল।

ডিআর