Image description

ইউক্রেন যুদ্ধে শক্তি বাড়াতে আরও ৫ লাখ নতুন সেনা মাঠে নামানোর ছক কষছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিয়েভের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই বিশাল সেনাবহর রণক্ষেত্রে মোতায়েন করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্লেষণ করে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার পার্লামেন্ট (ডুমা) নির্বাচনের পরই মূলত এই নতুন সেনা সমাবেশ শুরু করার পরিকল্পনা পুতিনের। তবে নিজ দেশের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টির ভয়ে পুতিন এই সেনা সমাবেশের বিষয়টি প্রকাশ্যে করবেন না, বরং গোপনে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে চাইছেন। জেলেনস্কি আরও মন্তব্য করেন, এত বিশাল সংখ্যক সেনাকে দ্রুততম সময়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে রণক্ষেত্রে এই অনভিজ্ঞ সেনাদের পাঠানোর কারণে রাশিয়ার বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, চলমান এই যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান পশ্চিমা মিত্রদের সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানো শুরু করায় যুদ্ধ এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, রাশিয়ার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে প্রেসিডেন্ট পুতিন শেষ অস্ত্র হিসেবে পারমাণবিক হামলাও চালাতে পারেন।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলতি বছর ইউক্রেন ও রাশিয়া—উভয় পক্ষই দূরপাল্লার হামলার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়েছে। সর্বশেষ সোমবার রাশিয়ার তাতারস্তানে ইউক্রেনের এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। একই দিন ইউক্রেনের খারকিভে রাশিয়ার গোলাবর্ষণে ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা একদিনে ইউক্রেনের ৪৫৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়া তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অন্তত ১২৬টি ড্রোন ছুড়েছে।

পরমাণু হামলার হুমকি এবং নতুন সেনা সমাবেশের এই খবর চলমান যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ডিআর