Image description

সন্ত্রাসীদের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রদানের আইন পাসের পর এবার নতুন ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করছে ইসরায়েল। এই নতুন ফাঁসির মঞ্চে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা যাতে ফাঁসি কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি দেখতে পারেন, সেজন্য বিশেষ বুথ বা গ্যালারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষত ফিলিস্তিনিদের ‘সন্ত্রাসী’ অভিহিত করে এই আইনের আওতায় ফাঁসি দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের প্রভাবশালী অংশীদার এবং ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভির নিজেই এই নতুন ফাঁসির মঞ্চ নির্মাণের বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। বেন-গ্যভিরের কট্টরপন্থি দল ‘ওতজমা ইয়েহুদিত’-এর অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে তাঁকে এই নির্মাণাধীন প্রকল্পের সামনে অহংকার করতে দেখা যায়।

ভিডিওতে অতি-ডানপন্থি এই মন্ত্রী বলেন, ফাঁসি কার্যকরের স্থানে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ বুথ থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই স্থানে শুধুমাত্র সন্ত্রাসী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ফিলিস্তিনিদের ফাঁসি দেওয়া হবে। একটি অজ্ঞাত স্থানে পরিদর্শনের সময় ধারণ করা ওই ভিডিও ক্লিপটিতে বেন-গ্যভির বলেন, ‘আমি কারাগারে সন্ত্রাসীদের অবস্থা আরও শোচনীয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা তা রেখেছি। আমি সন্ত্রাসীদের জন্য মৃত্যুদণ্ড আইন পাস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম; আমরা তা করেছি। আর এখন মৃত্যুদণ্ড এবং ফাঁসি কার্যকরের কেন্দ্রটিও রূপ নিতে শুরু করেছে। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে সন্ত্রাসীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।’

ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই স্থানের অন্যান্য ছবিতে দেখা গেছে, একটি কারাগারের কাছাকাছি ঘেরাও করা এলাকায় দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ চলছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ‘সন্ত্রাসীদের জন্য মৃত্যুদণ্ড আইন’ পাস হওয়ার পরই এই ভিডিও ফুটেজটি সামনে এল। এর মাধ্যমে ইসরায়েল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার সম্প্রসারণকারী হাতেগোনা কয়েকটি গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায় যুক্ত হলো। অত্যন্ত বিতর্কিত এই আইনে সামরিক আদালতগুলোকে সন্ত্রাস-সম্পর্কিত মামলাগুলোতে একমাত্র শাস্তি হিসেবে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই আইনটি কেবল মারাত্মক হামলায় দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রেই কার্যকর করা হবে।

ইসরায়েলের নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনের অন্যতম প্রধান হোতা বেন-গ্যভির গত মে মাসে একটি ফাঁসির দড়ির ছবি দিয়ে সাজানো বার্থডে কেক কেটে তাঁর ৫০তম জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন। তিনি মূলত আরব-বিরোধী এবং ফিলিস্তিনি-বিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। একসময় ইসরায়েলি সমাজে তাঁর চিন্তাভাবনাকে অত্যন্ত উগ্র ও প্রান্তিক মনে করা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তাঁর জনপ্রিয়তা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়।

২০২২ সাল থেকে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা বেন-গ্যভির বারবার তাঁর চরমপন্থি কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কিত হয়েছেন। গত মে মাসে তাঁর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে গাজার আটককৃত ত্রাণকর্মীদের হাত বাঁধা অবস্থায় হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখতে দেখা যায়। এছাড়া গত ১৬ আগস্ট এক পডকাস্টে তিনি প্রতি রাতে গাজায় ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের গণ-অভিবাসনের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের কম খাবার দেওয়াসহ নানা অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর এসব কর্মকাণ্ডের কারণে গত বছর ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্য বেন-গ্যভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

ডিআর