Image description

জ্বালানি তেলের পরিবর্তে শুধু ব্যাটারির শক্তিতে আকাশ জয়ের পথে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করল হার্ট অ্যারোস্পেস। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজ 'এক্স১' প্রথমবারের মতো সফলভাবে আকাশে উড্ডয়ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর থেকে ২৭ মিনিটের এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে কোনো প্রকার প্রথাগত জ্বালানি ব্যবহার করা হয়নি।

সুইডেনে প্রতিষ্ঠিত এবং বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হার্ট অ্যারোস্পেসের তৈরি এই 'এক্স১' মূলত একটি পরীক্ষামূলক মডেল। এর প্রধান লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে ৩০ আসনের হাইব্রিড বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই করা। প্রথম উড্ডয়নে উড়োজাহাজটি শুধুমাত্র একজন পাইলটকে নিয়ে সর্বোচ্চ ১১০০ ফুট উচ্চতায় ওঠে।

৭৬ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১০৬ ফুট ডানার বিস্তারের এই বিশাল উড়োজাহাজটির ওজন ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি। এতে ৩০টি আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হার্ট অ্যারোস্পেসের দাবি, বাণিজ্যিক আকারের একটি উড়োজাহাজে শুধুমাত্র ব্যাটারি ব্যবহার করে উড্ডয়ন সম্ভব—এটি প্রমাণ করাই ছিল এই ফ্লাইটের সার্থকতা। যদিও এক্স১-কে সরাসরি যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হবে না, এটি একটি ‘উড়ন্ত পরীক্ষাগার’ হিসেবে কাজ করবে। এর থেকে পাওয়া তথ্য ২০৩১ সালে বাণিজ্যিকভাবে চালু হতে যাওয়া 'ইএস৩০' মডেলে ব্যবহার করা হবে। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও এয়ার কানাডার মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি এই প্রযুক্তির অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো এর অবিশ্বাস্য কম পরিচালনা ব্যয়। হার্ট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, ২৭ মিনিটের এই উড্ডয়নে বিদ্যুতের খরচ হয়েছে মাত্র ৫ ডলার, যা বর্তমান বাংলাদেশি মুদ্রায় মাত্র ৬১১ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রথাগত আঞ্চলিক উড়োজাহাজের তুলনায় এই মডেলে পরিচালনা ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ কম হতে পারে।

তবে ব্যাটারিচালিত বিমানের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যাটারির ওজন। জ্বালানি চালিত বিমান উড্ডয়নের সময় ওজন কমাতে থাকলেও ব্যাটারিচালিত বিমানকে পুরো পথে একই ওজন বহন করতে হয়। এ কারণে ইএস৩০ মডেলটিকে হাইব্রিড করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র ব্যাটারিতে ১২৫ মাইল যাওয়া গেলেও হাইব্রিড ইঞ্জিনের সহায়তায় এটি ৫০০ মাইল পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারবে।

হার্ট অ্যারোস্পেসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডার্স ফর্সলুন্ড বলেন, "এক্স১-এর এই সফল উড্ডয়ন প্রমাণ করেছে যে বাণিজ্যিক আকারের বিমানেও বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার সম্ভব। এটি হাইব্রিড আঞ্চলিক বিমান তৈরির পথে আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি।"

উল্লেখ্য, হার্ট অ্যারোস্পেস ২০২৫ সালে তাদের সদর দপ্তর সুইডেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থানান্তর করে। এই সফল পরীক্ষার মাধ্যমে আকাশপথের দূষণ কমাতে এবং সাশ্রয়ী বিমান ভ্রমণের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

ডিআর