Image description

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ভিসা ও সীমান্ত পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের শত শত নারীর বিয়ে। অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের একটি অংশ ভারতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে প্রায় ১৫০ জন নারী ভারতে পৌঁছেছেন। তাদের সবারই ভারতীয় পাত্রের সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল এবং বিয়ের পর তারা শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে দুই দেশের সীমান্ত জটিলতায় তাদের ভারতে প্রবেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের অনেক পরিবারের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন পরিবারের বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আগে পাকিস্তানি সিন্ধিদের জন্য ভারতীয় ভিসা পাওয়া এবং ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত সহজ ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে ভারত এবং সিন্ধি দর্শনার্থীদের জন্য সরাসরি সীমান্তপথ ও ভিসা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পাকিস্তানি সিন্ধিদের নিয়ে কাজ করা রাজেশ জাম্বিয়া জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভারত সরকার কনে ও তাদের স্বজনদের জন্য ভিসা ইস্যু করেছে। তবে তাদের সরাসরি ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। কনে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মাসকাট, দুবাই বা শ্রীলঙ্কার মতো তৃতীয় দেশের ট্রানজিট ব্যবহার করে আকাশপথে ভারতে পৌঁছেছেন। 

জাম্বিয়া আরও জানান, অপারেশন সিঁদুরের পর যারা আটারি সীমান্ত দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।

দেড়শ নারী শেষ পর্যন্ত ভারতে পৌঁছাতে পারলেও পাকিস্তানে এখনো আরও প্রায় ৩০০ নারী অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের বিয়ের সম্পর্কও ভারতীয় পরিবারের সঙ্গে চূড়ান্ত হয়েছে। তবে ভিসা ও যাতায়াতের জটিলতার কারণে তাদের বিয়ে ও ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও বৈবাহিক যোগাযোগ থাকা দুই দেশের সিন্ধি সম্প্রদায়ের জন্য এই ভিসা সংকট শুধু যাতায়াতের সমস্যা নয়, বরং এটি গভীর এক সামাজিক ও পারিবারিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

ডিআর