Image description

কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার কপিল দেব। ইমরানকে নিজের ‘বন্ধু’ উল্লেখ করে তার জন্য সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার পিজিটিআইয়ের ‘রেস টু ডিপি ওয়ার্ল্ড ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইমরানের প্রসঙ্গে কথা বলেন কপিল। তিনি বলেন, তারা ইমরানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলেছেন এবং তার অসাধারণ প্রতিভার প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে।

কপিল বলেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আইন সম্পর্কে তারা বিস্তারিত জানেন না। তবে কারাগারে থাকা একজন মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত।

ইমরানকে শুধু পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নয়, বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসেবেও উল্লেখ করেন কপিল। তার মতে, ইমরানের জন্য যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কপিল বলেন, ‘আমরা চাই তিনি যেন সর্বোত্তম চিকিৎসা পান। আমরা আর কিছু চাইছি না, কোনো জবাবও চাইছি না। আমরা শুধু অনুরোধ করছি।’

পাকিস্তানের বর্তমান ক্রিকেটাররা কেন ইমরানের সমর্থনে প্রকাশ্যে কথা বলছেন না—এমন প্রশ্নে কপিল তাদের সমালোচনা করেননি। তিনি বলেন, বর্তমান ক্রিকেটারদের পাকিস্তানে বসবাস করতে হয় এবং সেখানেই তাদের ক্যারিয়ার চালিয়ে যেতে হয়। তাই তাদের পরিস্থিতিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে রোববার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছেন ২২ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক। চিঠিতে কপিল দেব, সুনীল গাভাস্কার, দিলীপ ভেংসরকার, ক্লাইভ লয়েড, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অ্যালান বোর্ডার, ডেভিড গাওয়ার, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইটসহ সাবেক ক্রিকেটাররা স্বাক্ষর করেছেন। উদ্যোগটি নিয়েছেন সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল।

এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ সাবেক অধিনায়ক ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন।

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ইমরান খান। ক্ষমতা হারানোর পর দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন।

সম্প্রতি চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য ইমরানকে একটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করে আবার আদিয়ালা কারাগারে পাঠিয়ে দেন। তবে তার পরিবার ও আইনজীবীরা ওই মেডিকেল পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ইমরানের পরিবার ও আইনজীবীদের দাবি, হাসপাতালে তার অবস্থান ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আদালতের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয়ভাবে গঠিত একটি দল তার পরীক্ষা করে তাকে সুস্থ ঘোষণা করেছে। অথচ আদালতের নির্দেশ দেওয়া মেডিকেল বোর্ড তখনও তার পরীক্ষা শেষ করতে পারেনি।

এ পরিস্থিতিতে কপিল দেবসহ সাবেক ক্রিকেটারদের বক্তব্য ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিকে আরও জোরালো করেছে।

এসএস