Image description

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম এলাকায় কাদার মধ্যে নেমে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। খবর আল জাজিরার।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেপালের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্যা ও ভূমিধসে দেশটিতে ৩৫৯ জন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেশী চীনের তিব্বত অঞ্চলেও আরও অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

নেপালের দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও সেতুর কারণে সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় তাঁবু, খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। অভিযানে ৫ হাজারের বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন।

নেপালের পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিখোঁজ ৯১০ জনের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের ১৭৭, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪, যুক্তরাজ্যের ৩৩ এবং কানাডার ২৫ জন রয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিকও রয়েছেন।

অন্যদিকে, চীনের তিব্বতের গিয়রং কাউন্টিতে আরও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। দুর্যোগস্থলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম তদারক করতে বৃহস্পতিবার তিব্বতে পৌঁছেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং।

বন্যার পানি গণ্ডক নদীর অববাহিকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ভারতের বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকেও হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কীভাবে এ ভয়াবহ বন্যা

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ভূমিকম্পের কারণে হিমবাহের নিচের অংশ ধসে গিয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, প্রথমে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত হওয়া কম্পনটি আসলে হিমবাহের পাথর ও বরফ ধসে পড়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। এর পরই বিপুল ধ্বংসাবশেষসহ পানির স্রোত নেমে আসে।

স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, বরফ ও পাথরের একটি ভূমিধস লেহেন্দে নদীতে বিপুল ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে পানির প্রবাহ তৈরি করে। এতে নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর, গাছপালা ও যানবাহন কাদায় চাপা পড়ে। প্রবল স্রোতে ভেসে যায় সেতু ও ঘরবাড়ি।

এদিকে, বন্যায় সৃষ্ট একটি হ্রদের পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। হ্রদটি ভেঙে গেলে আরও ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ।

এসএস