Image description

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেওয়া প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ড ফলাফল ঘোষণার পর মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্কের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তাকে ধন্যবাদ জানান জিগমুন্ড। রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়ে মাস্কের দৃষ্টিভঙ্গি ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

এএফডিকে রাশিয়াপন্থি বা মস্কোপন্থি দল হিসেবে দেখা হয়। দলটি ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনীয় নাগরিকদের শরণার্থী মর্যাদা না দেওয়ার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে দলটি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে প্রথম ডানপন্থি দল হিসেবে সরকার গঠনের কাছাকাছি পৌঁছেছে এএফডি। স্যাক্সনি-আনহাল্টে দলটির সমর্থন আগের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

এর আগে ইলন মাস্ক এএফডির সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালিস ভাইডেলকে সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন।

জার্মানির এই নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি নির্বাচনের ফলাফলের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভও ওই পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে এএফডির জয়কে ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেন।

তবে জয় পেলেও এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি এএফডি। ৮৩ সদস্যের রাজ্য পার্লামেন্টে দলটির আসন ৩৯টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে এটি তিনটি কম।

এদিকে অন্য দলগুলো এএফডির সঙ্গে জোট সরকার গঠন করবে না বলে জানিয়েছে। এ কারণে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েও দলটি শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এএফডিও জোট সরকার গঠনে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছে।

ইউরোপে উদ্বেগ

এএফডির জয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী বেঞ্জামিন হাদ্দাদ। তিনি এই ফলকে ‘ইউরোপের জন্য একটি গুরুতর মুহূর্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, জাতীয়তাবাদ ও বিদেশিবিদ্বেষ কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও এএফডির জয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

অন্যদিকে জার্মান ইকোনমিক ইনস্টিটিউট সতর্ক করেছে, এএফডির উত্থান স্যাক্সনি-আনহাল্টসহ জার্মানির অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এএফডির অভিবাসনবিরোধী নীতির কারণে রাজ্যটি আরও সমস্যায় পড়তে পারে। স্যাক্সনি-আনহাল্টে জনসংখ্যা কমছে, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং অর্থনীতি অনেকটাই বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল।

এ ছাড়া এএফডির রাশিয়াপন্থি অবস্থানের কারণে দলটি ক্ষমতায় গেলে জার্মানির সংবেদনশীল তথ্য মস্কোর হাতে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সমালোচকেরা সতর্ক করেছেন। তবে এএফডি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটি বরং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থায় সংস্কারের কথা জানিয়েছে।

এসএস