ঐতিহাসিক 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'র আওতায় সৌদি আরবকে সম্ভাব্য সব ধরনের যৌথ সামরিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউইয়র্কে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই বিষয়ে কৌশলগত আলোচনা করেন। এ চুক্তি বাস্তবায়নে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকেরও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে; যা মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ত্রিপক্ষীয় নতুন সমীকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম 'সৌদি গেজেট'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে সৌদি আরবের স্থায়ী মিশন কার্যালয়ে এ বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
বৈঠকে তিন দেশের সামরিক প্রধানদের (সেনাপ্রধান) আসন্ন ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের এজেন্ডা ও প্রস্তুতি নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। জানা গেছে, সেনাপ্রধানদের এই বৈঠকে মক্কা চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সৌদি আরবের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশটিকে প্রয়োজনীয় সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দেওয়ার বাস্তবসম্মত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, 'মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি'র মূল শর্ত অনুযায়ী—চুক্তিভুক্ত কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সামরিক হামলা বা আগ্রাসন চালানো হলে তা তিনটি দেশের ওপরই যৌথ হামলা হিসেবে গণ্য হবে।
বৈঠককালে সম্প্রতি সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরী এবং দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো অপচেষ্টা ও হামলাচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
একই সাথে আঞ্চলিক সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিন দেশের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া লোহিত সাগরসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌ চলাচল নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীই মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসে কূটনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় জোরদার করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ডিআর




Comments