পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে নতুন করে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি। ৩৭ বছর বয়সী এই নেতা প্রাদেশিক সরকারের প্রধানের পাশাপাশি পিটিআইয়ের জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ অক্টোবর ইসলামাবাদ অভিমুখে দীর্ঘ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে পিটিআই। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। এ নিয়ে সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।
সোহাইল আফ্রিদির অভিযোগ, পিটিআইয়ের নেতাকর্মী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে। চলতি মাসে তার দলের দুই মন্ত্রীও হামলার শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেছেন।
প্রথমে গত রোববার ইসলামাবাদ অভিমুখে মিছিলের পরিকল্পনা থাকলেও ইমরান খানের বোনদের গ্রেপ্তার এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে রাজধানীতে প্রবেশের পথ বন্ধ করার সরকারি উদ্যোগের পর কর্মসূচি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়।
আফ্রিদি জানিয়েছেন, কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া আত্মসমর্পণ নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশল। আগামী ৪ অক্টোবর মিছিল এবং ৫ অক্টোবর ইমরান খানের জন্মদিনে ‘বিজয় দিবস’ পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
১৯৮৯ সালে খাইবার পাখতুনখাওয়ার বারায় জন্ম নেওয়া সোহাইল আফ্রিদি পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় পিটিআইয়ের ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ইমরান খানের নির্দেশে আলী আমিন গান্দাপুরের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আফ্রিদি বলে পিটিআইয়ের নেতৃত্ব জানিয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে সামরিক অভিযান নিয়ে কঠোর অবস্থান নিলেও পরবর্তী সময়ে তার অবস্থান নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমের রাজা মনে করেন, আফ্রিদির অবস্থানকে সরাসরি পরিবর্তন বা আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
ইমরান খান কারাগারে থাকায় সোহাইল আফ্রিদি এখন পিটিআইয়ের রাজপথের আন্দোলনে অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন। আগামী ৪ অক্টোবরের কর্মসূচি তার জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্বের সক্ষমতা ও প্রভাবেরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এসএস




Comments