Image description

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। ইউক্রেন ও ইরান-গালফ অঞ্চলের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি, সার ও খাদ্য সরবরাহে সংকট তৈরি হচ্ছে। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি মারাত্মক চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির আয়োজিত এক আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন জয়শঙ্কর।

তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইরান-গালফ সংঘাত বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি বিশ্বে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সারসংকট দেখা দিয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

জয়শঙ্কর বলেন, জ্বালানির বাজারে সরবরাহের চাপের মধ্যে কোনো দেশ যদি জ্বালানি নিয়ে রাজনীতি করে, তাহলে সংকট আরও বাড়বে। এতে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করবে।

খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের বড় শস্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে শস্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে খাদ্য সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদনকারী অঞ্চলে সংঘাতের কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন এবং সুপার এল নিনোর মতো আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি যুক্ত হলে আগামী কয়েক মাসে বড় ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হতে পারে।

জয়শঙ্করের মতে, জ্বালানি, খাদ্য ও সারের সংকটের পাশাপাশি অর্থপ্রবাহে বাধা তৈরি হলে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে। সংঘাতের সময় বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকলে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে অর্থ সরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তিনি বলেন, কোনো দেশের নীতিনির্ধারকেরা শুধু ‘এটা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না’ বলে অন্য দেশগুলোর ওপর সংকটের প্রভাবের দায় এড়াতে পারেন না। বিপুলসংখ্যক মানুষের মৌলিক চাহিদা যেন উপেক্ষিত না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর ভারতের প্রতিবেশী অঞ্চলেও এর প্রভাব পড়েছে। ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এসব সংঘাতের ফলে বিভিন্ন দেশের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও নিজস্ব নীতি নির্ধারণের সক্ষমতা চাপে পড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী দেশগুলোর অবস্থান ও সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে।

জয়শঙ্করের আশঙ্কা, জ্বালানি, খাদ্য, সার ও অর্থায়নের সংকট একসঙ্গে তীব্র হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

সূত্র: দ্য হিন্দু

এসএস