Image description

সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার চরম আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড’ থেকে নিজেদের বি-১ বোমারু বিমানগুলো জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পুলিশ মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত এই রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ঘাঁটিতে নাশকতামূলক চক্রান্তের অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করার পর ওয়াশিংটন এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিল।

কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ, অতি জরুরি ভিত্তিতে ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা মার্কিন বি-১ বোমারু বিমানগুলোর স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং বিমানগুলো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের সামরিক ঘাঁটির উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পেন্টাগনের মুখপাত্র বলেন, "অপারেশনাল নিরাপত্তার কৌশলগত কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের সামরিক সরঞ্জাম ও সশস্ত্র বাহিনীর চলাচলের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ বা নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল না। তবে আমরা নিশ্চিত করছি যে, আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে সাময়িকভাবে মোতায়েন করা সব মার্কিন বোমারু বিমান নিরাপদে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।"

পেন্টাগনের মুখপাত্র আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে যোগ করেন, "বি-১, বি-২ এবং বি-৫২ সহ আমেরিকার শক্তিশালী বোমারু বহর পরিচালনাকারী বিমানসেনারা যেকোনো সংকটকালে যেকোনো স্থানে—এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে সরাসরি উড্ডয়ন ও অবতরণ করে নিখুঁত দূরপাল্লার হামলা চালাতে শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে।"

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলা শুরুর পর থেকেই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড’ ঘাঁটিটি মার্কিন বোমারু বিমানের প্রধান ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি ঘাঁটিটিকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তাহীনতার চিত্র সামনে আসে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক স্থাপনের চক্রান্তের অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করে যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে ইউকে পুলিশ ইঙ্গিত দেয়, এই চক্রান্তের নেপথ্যে ইরানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধন থাকতে পারে। যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের চক্রান্ত বা জড়িত থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়। পরবর্তীতে আটকদের ব্যবহৃত ভ্যান থেকে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল জব্দ করা হলেও কোনো বিস্ফোরক ডিভাইস না পাওয়ায় অভিযোগ ছাড়াই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়, তবে ব্রিটিশ পুলিশ তদন্ত চালু রাখার ঘোষণা দেয়।

পরবর্তী ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের পুলিশ জানায়, ফেয়ারফোর্ডে নাশকতার চক্রান্তে যুক্ত থাকার সন্দেহে রাজধানী লন্ডন থেকে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে এই চক্রান্তের পেছনে ‘ইরানের ভূমিকা ছিল’ বলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেও কৌশলগত কারণে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন।

ডিআর