যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সম্ভাব্য হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভান্ডার এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তবে হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
বুধবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তা ও সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে টানা তিন দিন তীব্র হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি করে তেহরানকে আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করার চিন্তা করছেন কিছু মার্কিন পরিকল্পনাকারী।
তবে এর আগে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বরং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, অস্থিতিশীল হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অস্ত্রের মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের শুরুতে হামলার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেন ট্রাম্প। নভেম্বরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, হাজারো মেরিন সেনা, যুদ্ধবিমান ও বিশেষ বাহিনীসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথা।
হামলার লক্ষ্য পারমাণবিক ও জ্বালানি স্থাপনা: সম্ভাব্য হামলার অন্যতম লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো। এর মধ্যে পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত একটি কেন্দ্রও রয়েছে। সেখানে শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছেন ট্রাম্প। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বোমা দিয়ে ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করা কঠিন হতে পারে।
ইরানের জ্বালানি স্থাপনাও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। তবে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কিছু মার্কিন কর্মকর্তা তেল শোধনাগারে হামলার বিরোধিতা করছেন।
অন্যদিকে, নতুন করে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজ, জ্বালানি অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার ও সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবলে পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
নির্বাচন ও কূটনৈতিক আলোচনা: ইসরায়েলে ২৭ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হেরে গেলে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার আগপর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ পরিস্থিতিও হামলার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। ইরান প্রথমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সমঝোতা এবং পরে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার অংশ করতে আগ্রহী।
সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ডানা স্ট্রাউল মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করলে কীভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হবে, তার বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু।
অন্যদিকে, ইরানের আলোচক দলের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি তিন দিনে যুদ্ধ শেষ করার ধারণাকে অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নতুন হামলা হলে ইরানের পাল্টা আঘাত হবে আরও তীব্র ও ভিন্ন কৌশলের।
এসএস




Comments