টানা ১১ বছর কমার পর জাপানে নবজাতকের সংখ্যা সামান্য বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির নাগরিকদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক চার শতাংশ বেড়েছে। বুধবার সরকারি তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা কিয়োদো নিউজ।
জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জাপানি নাগরিকদের ঘরে ৩ লাখ ২০ হাজার ৪৫৮টি শিশু জন্ম নিয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করলে এই ছয় মাসে মোট নবজাতকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৮ জনে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা শূন্য দশমিক আট শতাংশ বেশি।
দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা কমতে থাকা জাপানের জন্য জন্মের সংখ্যা সামান্য বাড়াকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দেশটির সামগ্রিক জন্মহার এখনো ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে।
জন্মের সংখ্যা বাড়লেও জাপানের জনসংখ্যা সংকট কাটেনি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে ৭ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ সময়ে জন্মের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৪ জন বেশি ছিল।
বিশ্বের যেসব দেশে প্রবীণ মানুষের অনুপাত দ্রুত বাড়ছে, জাপান তাদের অন্যতম। বিয়ে ও সন্তান ধারণে উৎসাহিত করতে সরকার আর্থিক প্রণোদনা এবং শিশু পরিচর্যা সহায়তা বাড়িয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও জন্মহারের দীর্ঘমেয়াদি পতন পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি।
২০২৫ সালে জাপানি নাগরিকদের মধ্যে ৬ লাখ ৭১ হাজার ২৩৬টি শিশুর জন্ম হয়েছিল। ১৮৯৯ সালে আধুনিক পদ্ধতিতে জন্মের হিসাব রাখা শুরুর পর এটিই ছিল সর্বনিম্ন বার্ষিক সংখ্যা। ওই বছর দেশটির মোট প্রজনন হারও রেকর্ড সর্বনিম্ন ১ দশমিক ১৪-তে নেমে আসে। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ১ দশমিক ১৫।
এদিকে চূড়ান্ত আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকসহ ২০২৫ সালে জাপানের মোট জনসংখ্যা ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১২ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। দেশটির আদমশুমারিতে টানা তৃতীয়বারের মতো জনসংখ্যা কমার ঘটনা এটি।
বর্তমানে জাপানের মোট জনসংখ্যার রেকর্ড ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। প্রবীণ মানুষের এই উচ্চ হার দেশটির কর্মীবাহিনী, পেনশন ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।




Comments