Image description

বর্ষার বানের পানিতে ভেসে আসা কচুরিপানার তীব্র ভোগান্তি থেকে বাঁচতে এবার নিজেদের মেধা ও দেশীয় প্রযুক্তিতে কচুরিপানা অপসারণের এক অভিনব যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন স্থানীয় একদল কৃষক। সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সহযোগিতা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি এই যন্ত্রটি এখন হাওড় বেষ্টিত লাখাইর অবরুদ্ধ জলাশয় ও ফসলি জমি মুক্ত করার ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

প্রতিবছরই বানের পানিতে ভেসে আসা কচুরিপানার কারণে এ অঞ্চলের কৃষকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। এর ফলে একদিকে যেমন নৌচলাচল বন্ধ থাকত, অন্যদিকে মৎস্য চাষ ও কৃষিকাজে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটত। শ্রমিকের অভাব এবং কচুরিপানা পরিষ্কারের বিপুল খরচের কারণে যখন এলাকার কৃষকেরা দিশেহারা, ঠিক তখনই এই সংকটের সবচেয়ে সহজ এবং সাশ্রয়ী সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসেন প্রান্তিক এই উদ্ভাবকরা।

সাধারণ নৌকায় স্থাপন করা ডিজেলচালিত ইঞ্জিন এবং স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত কলকব্জা দিয়ে তৈরি এই আধা-স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রটি অত্যন্ত অল্প সময়ে এবং নামমাত্র খরচে বিশাল এলাকার থিকথিকে কচুরিপানা কেটে পরিষ্কার করতে সক্ষম। স্থানীয় কৃষকদের মতে, যে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে আগে শত শত শ্রমিকের হাড়ভাঙা খাটুনি আর হাজার হাজার টাকার প্রয়োজন হতো, এই দেশীয় যন্ত্রটি এখন সেই কাজ করছে চোখের পলকে। এতে কৃষকের সময়, শ্রম ও অর্থ—তিনটিই সাশ্রয় হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নীরব বিপ্লব নিয়ে এসেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, যন্ত্রটির সফল ব্যবহারে অবরুদ্ধ খাল-বিল ও ফসলি জমি আবারো প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এবং পতিত জমিগুলো চাষের আওতায় আসছে। এই যন্ত্রের উদ্ভাবক কৃষক জামাল মিয়া, বেলন মিয়া ও মো. শামীম মিয়া জানান, শুধু প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর নিজেদেরসহ স্থানীয় চাষীদের সংকট দূর করার তাগিদ থেকেই তারা এই যন্ত্রটি তৈরি করেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দেশীয় উদ্ভাবনকে যদি সরকারি বা বেসরকারিভাবে আর্থিক ও কারিগরি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া যায়, তবে এটি সারা দেশের হাওর ও মফস্বল অঞ্চলের কচুরিপানা সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হতে পারে। সেই সাথে এটি আমদানিকৃত দামি যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরতাও কমাবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি উদ্যোগ, যা হাওড়ের কৃষকদের কষ্ট লাঘব করবে এবং পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে সাহায্য করবে। কৃষি বিভাগ তাদের এ সফলতা সম্পর্কে অন্য কৃষকদেরও অবহিত করবে বলে তিনি জানান।

এসএ