নিজের সৃষ্টি করা এআই মডেল মানব বুদ্ধিমত্তার চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠলে সাধারণ সমাধান হলো—তার চারপাশে কিছু সুরক্ষাবলয় বা নিয়ম তৈরি করা। কিন্তু এআই কোম্পানি ‘অ্যানথ্রোপিক’ (Anthropic) একটু ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে; তারা সাহায্য নিয়েছে একজন হিন্দু সন্ন্যাসীর। তাদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ‘ক্লড’ (Claude)-কে কোনটা ভুল আর কোনটা সঠিক তা বোঝাতে রামকৃষ্ণ মিশনের বিশিষ্ট সন্ন্যাসী ও নিউ ইয়র্কের বেদান্ত সোসাইটির প্রধান স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দকে সান ফ্রানসিসকোতে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়া-তে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যানথ্রোপিক তাদের তৈরি এআই মডেল ‘ক্লড’-কে কেবল কয়েকটি কঠোর নিষিদ্ধ নিয়মের জালে বেঁধে রাখতে চায় না। তারা একটি “কনস্টিটিউশন” বা সংবিধান এবং অভ্যন্তরীণভাবে “সোল ডক” (Soul Doc) নামের এক সেট নীতি ব্যবহার করছে, যাতে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে এআই কোনো কোডেড নিয়মের বদলে নিজস্ব নৈতিক বিচারবুদ্ধি (moral formation & judgment) প্রয়োগ করতে পারে।
একজন প্রোগ্রামার এআই-কে জৈব অস্ত্র তৈরিতে সাহায্য না করার নিয়ম সেট করতে পারেন, কিন্তু যখন দুটি নীতির মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় বা এমন কোনো পরিস্থিতি আসে যা আগে কোডিং করা হয়নি, তখন শুধু গাণিতিক নিয়ম কাজ করে না। সেখানেই প্রয়োজন হয় বহুমাত্রিক মূল্যবোধের।
স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দকে নির্বাচন করার কারণ হলো অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন কেবল সাধারণ নৈতিকতা নয়, বরং ‘চেতনা’ (consciousness) ও ‘আত্মা বা অস্তিত্ব’ (self) নিয়ে গভীর আলোচনা করে। শ্রী রামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দের বেদান্ত দর্শনে বলা হয়েছে—সব জীবের মধ্যে যদি একই অন্তর্দৃষ্টি বা বাস্তবতা বিরাজ করে, তবে অন্যের সঙ্গে আচরণের ধরণটি তার নিজের আত্মোপলব্ধির সঙ্গে যুক্ত। অ্যানথ্রোপিক জানতে চায়—শুধু ওপর থেকে নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং এআই তার নিজস্ব সত্তার স্বরূপ বুঝে নীতিমান আচরণ গড়ে তুলতে পারে কি না।
শুধু স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দই নন, অ্যানথ্রোপিক গত কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে বহু ধর্মীয় ও দার্শনিক চিন্তাবিদকে একত্রিত করে “উইজডম ট্র্যাডিশন” (Wisdom Tradition) গঠন করেছে। এতে ক্যাথলিক, খ্রিষ্টান, ইহুদি, শিখ এবং আফ্রিকান দার্শনিক ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিত্বরা অংশ নিয়েছেন। শত শত বছরের দর্শন, আত্মোপলব্ধি ও নৈতিকতার শিক্ষা কীভাবে আগামী দিনের প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ ও সংবেদনশীল করতে পারে—সেটিই এখন সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিবিদদের অনুসন্ধানের মূল বিষয়।
ডিআর




Comments