Image description

প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতিতে হওয়া সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ দেখিয়ে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং এ ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৯(খ) ধারা কেন অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। রুলের বিবাদী করা হয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে।

আইনের ৯(খ) ধারায় বলা হয়েছে, দৈহিক বলপ্রয়োগ ছাড়া বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সী কোনো নারীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপন এবং ওই সময় আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।

পুরুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষে সংগঠনটির সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম নাদিম ২০২৫ সালে জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন। পরে ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে একই বিধান পুনর্বহাল হওয়ায় এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সম্পূরক হলফনামা দাখিল করা হয়।

রিটে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র ভিত্তিতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা অস্পষ্ট, বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে নিশ্চিত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোহাদ্দেশ-উল-ইসলাম।

শুনানি শেষে ইশরাত হাসান বলেন, অতীতে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ অভিযোগে বহু মামলা হলেও আদালতের বিভিন্ন রায়ে বলা হয়েছে, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সম্পর্কে জড়ালে তা সব ক্ষেত্রে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা যায় না। তার দাবি, ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে আগের বিতর্কিত বিধানই পুনরায় যুক্ত করা হয়েছে, যার সাংবিধানিক বৈধতাই এখন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।