রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আটক ২৮৯ জনের মধ্যে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি ২৬২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার রাতে ২৭ জনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে জামিন শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করা হয়েছে।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, আটক ব্যক্তিরা জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। পরে শনিবার বিকেলে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাস্থলে আসার বিষয়ে আটক ব্যক্তিরা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তারা কোনো ধর্তব্য অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন—এমন প্রাথমিক ধারণার ভিত্তিতে ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
তবে জাসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি ছিল পূর্বনির্ধারিত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করেই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
আসকের নিন্দা
জাসদ কার্যালয়ে হামলা ও মব সৃষ্টির অভিযোগ এবং পরে ২৮৯ জনকে আটকের ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
রোববার এক বিবৃতিতে আসক বলেছে, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত সভা চলাকালে মব তৈরি করে তা ভণ্ডুল করা এবং পুলিশের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মীদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়।
গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে যুবদলের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের মব সৃষ্টি ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
আসক দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। হামলা, উস্কানি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এসএস




Comments