Image description

বইয়ের পাতা উল্টে ইসলামি ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্মীয় জ্ঞান ও গবেষণার জগতে প্রবেশ—এমন সুযোগ করে দিয়েছিল রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ ও পূর্ব চত্বরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা। মাসব্যাপী এ আয়োজনের শেষ দিন আজ রোববার (১১ অক্টোবর)। রাত ১০টায় মেলার পর্দা নামবে। পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেলার সময়সীমা আর বাড়ানো হচ্ছে না।

গত ১২ সেপ্টেম্বর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেন কায়কোবাদের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবারের মেলা। অন্যবারের তুলনায় কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও সাজসজ্জা, সুশৃঙ্খল স্টল বিন্যাস এবং নানা ধরনের বইয়ের সমাহারে পাঠকদের আকৃষ্ট করে আয়োজনটি।

ইসলামি বইপ্রেমীদের জন্য মেলায় ছিল দেশি-বিদেশি প্রকাশনা সংস্থার বইয়ের সংগ্রহ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় মোট ১৪৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। দেশি প্রকাশনা সংস্থার পাশাপাশি অংশ নেয় পাকিস্তান, ভারত, মিসর ও লেবাননের বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা। ফলে ইসলামি সাহিত্য, ইতিহাস, ফিকহ ও গবেষণামূলক বইয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান পাঠকেরা।

শুধু বই কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না এবারের আয়োজন। মেলা প্রাঙ্গণে ছিল লিটলম্যাগ, লেখক, শিশু ও মহিলা কর্নার। তরুণ ও নতুন প্রজন্মের পাঠকদের আকৃষ্ট করতে যুক্ত করা হয় ‘জুলাই কর্নার’ ও ‘শাপলা কর্নার’। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় ‘সীরাহ এক্সিবিশন’, যা মেলায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা ছিল। ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের জন্য মেলার দরজা খোলা হতো সকাল ১০টায়। মাসব্যাপী এ আয়োজনে পাঠক ও বইপ্রেমীদের সমাগম ঘটলেও বই বিক্রি নিয়ে প্রকাশকদের অভিজ্ঞতা ছিল মিশ্র।

প্রকাশকদের কেউ কেউ মনে করেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদার করা গেলে মেলায় পাঠকদের উপস্থিতি বাড়তে পারত। তবে মেলার পরিবেশ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। আগামী বছর আরও উন্নত পরিকল্পনা ও আগাম প্রচারণার মাধ্যমে মেলাটি আরও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রকাশকেরা।

আজ রাত ১০টায় মেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির মধ্য দিয়ে শেষ হবে মাসব্যাপী এই আয়োজন। তবে ইসলামি সাহিত্য, ইতিহাস ও জ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহী পাঠকদের জন্য এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব থেকে যাবে। আর আয়োজকদের সামনে থাকবে আগামী বছর মেলাটিকে আরও পাঠকবান্ধব ও প্রাণবন্ত করে তোলার প্রত্যাশা।

এনএ