মোহনগঞ্জে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন নিয়ে বিরোধ, হামলায় আহত কৃষকের চিকিৎসাধীন মৃত্যু
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিদ্যুতের সংযোগের জন্য ট্রান্সফরমার ও মিটার স্থাপন নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত কৃষক মো. সবুজ মিয়া (৫৫) মারা গেছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর ৫টা ২৫ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত সবুজ মিয়া মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আয়াত আলীর ছোট ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর গ্রামে একটি ওয়ার্কশপে থ্রি-ফেজ বিদ্যুতের সংযোগের জন্য ট্রান্সফরমার ও মিটার স্থাপন করা নিয়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিহত সবুজ মিয়ার পরিবারের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই জেরে গত আগস্ট মাসে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। সংঘর্ষ চলাকালে সবুজ মিয়াসহ কয়েকজন রক্তাক্ত আহত হন।
গুরুতর আহত সবুজ মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার ভোরে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় হামলার পর পরই অর্থাৎ গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আনিসুল ইসলাম ইমন বাদী হয়ে ইব্রাহীম ও জাহাঙ্গীরসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মোহনগঞ্জ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছিলেন।
মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাকিবুজ্জামান জানান, "বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বিরোধের ঘটনায় গত ২৮ আগস্ট আনিসুল ইসলাম ইমন বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মোহনগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। যেহেতু আহত চিকিৎসাধীন ব্যক্তি মারা গেছেন, তাই মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
এদিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবুজ মিয়ার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পরিবারের কান্নার রোল পড়ে যায়। স্বজনরা জড়িত হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ডিআর




Comments