প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের প্রকাশ্যে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)।
রোববার (১ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এনইসির সভাপতি শফিক রেহমান ও কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলম এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে একটি সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য ভিডিও করে প্রচার করা ন্যক্কারজনক। এ ধরনের আচরণ গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
তারা বলেন, ‘আমার দেশ’ কিংবা অন্য কোনো সংবাদপত্রের প্রকাশিত সংবাদে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিবাদলিপি পাঠানো, প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করা কিংবা আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব আইনসম্মত পথ অনুসরণ না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা স্পষ্টতই উসকানিমূলক আচরণ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও আম-জনতা দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান ‘আমার দেশ’-এর একটি পুরোনো সংবাদকে কেন্দ্র করে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এনইসি নেতাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য শুধু উসকানিমূলক নয়, বরং একজন সম্পাদককে সরাসরি হুমকি দেওয়ার শামিল।
নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা, আগুন দেওয়া এবং পত্রিকা কার্যালয়ে হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছিল। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যেও প্রায় একই ধরনের আচরণ দেখা যাচ্ছে।
বিবৃতিতে তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণ, সম্পাদকদের হুমকি এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করা হচ্ছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সংযত আচরণ করা জরুরি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন এনইসির সভাপতি শফিক রেহমান ও কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলম।
এসএ




Comments