Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে তেহরানের রাজপথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান ও উত্তাপ নতুন মাত্রা পেয়েছে। এবার রাজধানী তেহরানের প্রধান প্রশাসনিক পয়েন্টে ট্রাম্পকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়ে বিশালাকৃতির বিলবোর্ড স্থাপন করেছে ইরান সরকার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তেহরানের ব্যস্ততম এনগেলাব স্কয়ারে এ বিলবোর্ড উন্মোচিত হয় বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি (AFP)-র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এনগেলাব স্কয়ারে টাঙানো মূল বিলবোর্ডটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গরাদের পেছনে মাথা নিচু করে বন্দি অবস্থায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর ওপর বড় অক্ষরে ইংরেজি ও ফারসিতে লেখা রয়েছে— “উই উইল কিল ট্রাম্প” 

বিলবোর্ডটির পাশেই স্থাপন করা অন্য একটি বোর্ডে ট্রাম্পের পাশাপাশি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ছবি স্থান পেয়েছে। ছেঁড়া ও বিবর্ণ মার্কিন-ইসরায়েলি পতাকার পটভূমিতে তাঁদের চারজনের মুখমণ্ডলই রক্তে রঞ্জিত ও পোশাক তছনছ অবস্থায় ফুটিয়ে তোলা হয়।

বিলবোর্ড উন্মোচনের পর স্কয়ার চত্বরে সমবেত হন শত শত বিক্ষোভকারী। তাঁদের হাতে ছিল লাল পতাকা এবং ব্যানারে লেখা ছিল— ‘দেয়ার উইল বি ব্লাড’। এ সময় জনতা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার রক্তক্ষয়ী বদলা নেওয়ার জোরালো দাবি জানান।

প্রচারণার অংশ হিসেবে তেহরানের উত্তরাঞ্চলীয় তাজরিশ স্কয়ারে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ দেওয়ালচিত্র ও চিত্রকর্মের এক উন্মুক্ত প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর একটি চিত্রে দেখা যায়, ট্রাম্প রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে আছেন এবং তাঁর মাথার ওপর বুট পরা পা চেপে ধরা হয়েছে। অন্য ছবিতে বোমার ভেতরে তাঁর চেহারা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

সবচেয়ে নজর কেড়েছে প্রদর্শনীতে নির্মিত মানুষের সমান উচ্চতার এক লোহার খাঁচা বা জেলখানা। যেখানে ট্রাম্পের মতো দেখতে এক পারফর্মার সারা দিন জেলখানায় বন্দি থাকেন। আর পাশের এক বড় পর্দায় মার্কিন হামলায় ধ্বংস হওয়া ইরানের নানা স্থাপনার ভিডিও দৃশ্য দেখানো হয়। ইরানের অভিযোগ, যুদ্ধের সময় ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে স্কুল ও বিয়ের অনুষ্ঠানে পর্যন্ত মার্কিন বিমান হামলায় বহু বেসামরিক নারী ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের প্রধান প্রধান রাজপথের মোড়ে বিলবোর্ড ও মুর্যালের মাধ্যমে মিত্রদের শ্রদ্ধা জানানো কিংবা আমেরিকা-ইসরায়েলকে চূড়ান্ত রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে।

তবে রাজপথে এ ধরনের চরম সংঘাতময় বা বারুদে বার্তা ছড়িয়ে পড়ার দিনেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববাজারে তীব্র জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পেক্ষাপটে এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের অসন্তোষ সামলাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তেহরানের সাথে একটি সমঝোতা চুক্তি "হতেও পারে"।

ডিআর