বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় (থার্ড) টার্মিনাল সহসাই চালু হচ্ছে না। জাপানের সঙ্গে দর-কষাকষিতে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এটি চালুর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
সোমবার সচিবালয়ে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধন অধ্যাদেশ’ এবং ‘ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে অনেক কাজ বাকি রেখেই তড়িঘড়ি করে থার্ড টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তখন জানানো হয়েছিল, পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে আরও এক বছর সময় লাগবে। তবে গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর থেকে এই প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়ে।
উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘থার্ড টার্মিনাল চালুর জন্য আমাদের প্রাণান্ত চেষ্টা ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে জাপানিজ ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমরা অনেক দর-কষাকষি করেছি। কিন্তু সব চেষ্টা সত্ত্বেও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।’
কুয়াশা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিমান অবতরণ সমস্যা কাটাতে শাহজালাল বিমানবন্দরের অবকাঠামো পরিবর্তন বর্তমানে বেশ কঠিন। এ সমস্যার বিকল্প সমাধানে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ‘ক্যাটাগরি-থ্রি’তে উন্নীত করা হবে বলে জানান উপদেষ্টা। এই অত্যাধুনিক অবকাঠামো ব্যবস্থায় অতি ঘন কুয়াশাতেও বিমান নিরাপদভাবে অবতরণ করতে পারবে।
শেখ বশিরউদ্দীন আরও বলেন, ‘কক্সবাজারকে ক্যাটাগরি-থ্রিতে উন্নীত করা গেলে কুয়াশার কারণে ফ্লাইট ডাইভার্ট করে সেখানে নিয়ে যাওয়া যাবে। কক্সবাজারের রানওয়ে ঢাকার চেয়েও বড়; ঢাকার রানওয়ে ১০ হাজার ৫০০ ফুট আর কক্সবাজারের রানওয়ে ১৪ হাজার ফুট।’
এ ছাড়া বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম বন্ধ করে পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।




Comments