প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের সভাকক্ষে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)-এর এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের প্রশংসা করার জন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ভালো কাজের প্রশংসা হলে উৎসাহ পাওয়া যায়।”
গণমাধ্যমে সরকারের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগের শাসনে আমিও সংবাদমাধ্যমের অপপ্রচারের শিকার হয়েছি। সেসব আমি সয়ে নিয়েছি।”
দেশ পুনর্গঠনে সরকারের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি সম্পাদকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “মাত্র ৫ মাস হয়েছে। সব সেক্টরে আমরা মাইনাস থেকে শুরু করেছি। একটু সময় দেন। দেশ পুনর্গঠনে একটু সহযোগিতা করুন।” প্রধানমন্ত্রী প্রতি চার মাসে অন্তত একবার এনইসি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ে মিলিত হওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম ও মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।
মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মাহমুদুর রহমান বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার অধিকার যেন খর্ব করা না হয়। সাংবাদিকরা ক্ষমতাকে প্রশ্ন করবে। রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যারা থাকবেন, তাদেরকে যেমন প্রশ্ন করবে, তেমনি বিরোধী দলকেও প্রশ্ন করবে।”
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে চাটুকারিতা সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছিল। এখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে আরও উন্নত করতে হবে। মাহমুদুর রহমান দাবি জানান, কোনো সাংবাদিককে তার পেশাগত দায়িত্ব পালন তথা লেখার জন্য সরাসরি যেন গ্রেপ্তার করা না হয়। অভিযোগ থাকলে আদালত সমন জারি করবে, কিন্তু সরাসরি গ্রেপ্তার করা যাবে না।
তিনি বলেন, “ফৌজদারি অপরাধ আর সাংবাদিকতা এক জিনিস নয়। যদি কোনো সাংবাদিক ফৌজদারি অপরাধ করেন, তবে সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেই পারে।”
বৈঠকে প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ‘টাইমস বাংলা ট্রাস্ট’ পুনরুজ্জীবিত করে দৈনিক বাংলা ও বিচিত্রার মতো বন্ধ হওয়া পত্রিকাগুলো পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়।
মাহমুদুর রহমান জানান, তারা প্রধানমন্ত্রীকে মিডিয়া কমিশন দ্রুত গঠন করার জন্য অনুরোধ করেছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments