Image description

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ও বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, সেটি একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ ও নিজস্ব বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রোববার (১৬ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ভারত কি আদালতের অনুমোদন নিয়ে তাকে পাঠাবে, নাকি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে—সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ভারত সরকার নেবে।”

সম্প্রতি ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে হলে ভারতের আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। এই প্রতিবেদনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “ভারতের আদালতের মাধ্যমে নাকি সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে শেখ হাসিনাকে পাঠানো হবে, তা তাদের দেশের আইনের বিষয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাকে বাংলাদেশে পাঠাবে, তা তাদেরই নির্ধারণ করতে হবে।”

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ভারতীয় আইনে এ ধরনের প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে ঠিক কী কী আইনি ধাপ রয়েছে, সেটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং একটিতে তিনি ইতোমধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। এমতাবস্থায় তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি।

আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্যের কথা স্মরণ করে বলেন, “তিনি নিজেও বলেছেন যে ডিসেম্বরে তিনি আসবেন। আমরা মনে করি, ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে এর আগেই ভারত সরকারের বাংলাদেশে পাঠানো উচিত।”

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আইনি ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা নিয়মিত অব্যাহত রয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তরের বিষয়টি ভারতের বিদ্যমান আইনি কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

ডিআর