প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৎস্য খাতকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন বাজার খুঁজে বের করার জন্য দেশের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে বহু নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ও হাওর অলস পড়ে রয়েছে। সরকার এসব জলাশয় সংস্কার করে মৎস্য পোনা ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বেকার তরুণদের মধ্যে এসব জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ বণ্টন করা হবে, যাতে তাদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।’
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউটের মিনি স্টেডিয়ামে ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের মৎস্য সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে— ‘রুপালী মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণ পদক) প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় হাওর ও জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাছকে যদি আমরা বাঁচাতে চাই, তাহলে পরিবেশের সুরক্ষার প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন আবর্জনা, টিস্যু পেপার ও প্লাস্টিকের বোতল ফেলার কারণে ধীরে ধীরে নদী-নালা ও জলাশয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি পরিবার, মাছ ও পানি রক্ষা করতে চাই, তবে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
মৎস্য খাতের অবদানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের ৫২টি দেশে মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট জলজ প্রাণী উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫ম এবং অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ আহরণে ২য় স্থান অর্জন করেছে।’ তিনি আরও জানান, দেশের জাতীয় জিডিপিতে ইলিশের অবদান বর্তমানে ১ শতাংশেরও বেশি।
প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ফান্ড থেকে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপের জন্য ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান (গ্রান্ট) দেওয়া হবে। সুতরাং এই সুযোগ গ্রহণ করে নতুন উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।’ তিনি বৈদেশিক বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, গত জুন মাসে প্রথমবারের মতো নাইজেরিয়াতে হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করা হয়েছে। এভাবেই নতুন পণ্য ও বাজার খুঁজে বের করতে হবে, যেখানে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
মৎস্যজীবী ও জেলেদের সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, মৎস্য চাষিদের কৃষক কার্ড এবং জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর অঞ্চলে মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলেদের ভিজিএফ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন প্রমুখ। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শোলাকিয়া মাঠে বৃক্ষরোপণ এবং কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
ডিআর




Comments