দীর্ঘ ১৯ বছর ঢাকায় চাকরির ধারাবাহিকতায় নাদিরা আক্তার ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাত ধরে ফরিদপুরের আওয়ামী কন্যা হিসেবে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন শাখার পরিচালক হিসেবে প্রাইস পোস্টিং নিয়ে প্রায় চার বছর দাম্ভিকতার সাথে কর্মরত আছেন। এই চার বছরে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তিনি মহাপরিচালকের বিশেষ আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন এবং মহাপরিচালক কে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের বেড়াজালে আবদ্ধ করে তিনি অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণের চালকের আসনে আসীন হয়ে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের এই প্রভাব ও অবস্থানকে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে তিনি বিতর্কিত ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা—উপপরিচালক মোঃ আজিজুল ইসলাম, সিস্টেম এনালিস্ট মোঃ নজরুল ইসলাম, উপপরিচালক মোঃ আল আমিন, উপপরিচালক বিপুল কুমার গোস্বামী এবং উপপরিচালক তারিক সালমানকে নিয়ে একটি শক্তিশালী বলয় বা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রভাবশালী বলয়ের মাধ্যমেই বর্তমানে অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য সহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে মাসিক ভিত্তিতে অবৈধ অর্থ আদায়ের একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সংগৃহীত সেই অর্থ সিন্ডিকেটের সকল সদস্য সহ অধিদপ্তরের কর্তা ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়।
সম্প্রতি অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম সম্পূর্ণ রূপে এই প্রভাবশালী বলয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার তথ্য মিলেছে। সরকারি বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত প্রচলিত বিধি-বিধান ও নীতিমালা অনুসরণ না করে পছন্দ-অপছন্দ ও অর্থের বিনিময়ে কর্মকর্তাদের যেখানে ইচ্ছা সেখানে পদায়ন করা হচ্ছে। এমনকি উপপরিচালকের কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক এবং সহকারী পরিচালকের কার্যালয়ে উপপরিচালকের মতো অস্বাভাবিক পদায়নও যেন অধিদপ্তরের নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে আরও জানা যায়, পরিচালক নাদিরা আক্তারের নানামুখী অপকৌশলের মাধ্যমে কোনো কোনো কর্মকর্তাকে বিভিন্ন কারণ দর্শানোর নোটিশ অথবা বিভাগীয় মামলা অথবা মামলার ভয় দেখিয়ে এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। এর ফলে অধিদপ্তরের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতার পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব ও আনুগত্যের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষোভ ঝেড়ে নাদিরা আক্তার বলেন, এটা কি আমার অফিস এটা কি আমার সরকার এটার মালিক আমি, আমি আছি বলতে এটা কি বুঝায় সরকার আমাকে রাখছে, আমি কি নিজের ক্ষতি নিজে করি? আমি কি এখানকার অথোরিটি যে আমি নিজেকে বসিয়ে রাখছি এখানে? আপনাকে আমি চাপ দিয়েছি আপনি এখানে আমাকে বসিয়ে রাখেন। এটা অধিদপ্তর এখানকার কর্মকর্তা কর্মচারী কোথায় থাকবে সেটার বিষয় তারা দেখবে। আমাকে দিয়ে যেখানে কাজ হবে সেখানে রাখবে। এই ডিপার্টমেন্টের ভেতরে যারা টাকা পয়শা খেতে চায় তারা সবাই চলে যায় হেডকোয়াটারের বাইরে। সরকার আর হেড অফিসে কাদের রাখে জানেন? কামলাদের যাদের কামলার মতো করে খাটাতে পারবে। সেই কামলা গুলারে রাখে হেডকোয়াটারে। হেডকোয়াটারে থাকে কারা যারা দালালি করতে পারবে না, যারা টাকা আনতে পারবে না যারা বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদা আনতে পারবে না তাদের হেডকোয়াটারে রাখে।
ফলে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর যেন ধীরে ধীরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পরিবর্তে কোনো কোনো ব্যক্তির একচ্ছত্র প্রভাবাধীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে—এমন উদ্বেগ সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেয়ে অধিদপ্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়সংগত প্রশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা এখন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রবল হয়ে উঠেছে।
এসএস




Comments