Image description

সারাদেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৮ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৯৪৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৫২ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম এবং ১ হাজার ২৪৫ জনের শরীরে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম’-এর নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নতুন করে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামের কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ নিয়ে চলতি বছরের গত ১০ এপ্রিল থেকে শুরু করে সারাদেশে হাম ও হাম-সংক্রান্ত জটিলতায় মোট মৃত্যুর মিছিল দাঁড়াল ১ হাজার ৪৮ জনে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জন সন্দেহজনক হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ২০ হাজার ৩৯৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর চিত্র:

নিশ্চিত হামে মৃত্যু (১০০ জন): ল্যাব নিশ্চিত হামে সর্বাধিক ৬৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জন, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগে ৩ জন করে এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

সন্দেহজনক হামে মৃত্যু (৯৪৮ জন): হামের উপসর্গ ও জটিলতায়ও শীর্ষ ৪২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। পাশাপাশি সিলেটে ১৬৫ জন, রাজশাহীতে ৯৩ জন, ময়মনসিংহে ৭৭ জন, চট্টগ্রামে ৭৪ জন, বরিশালে ৫৯ জন, খুলনায় ৪০ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম দিক থেকেই দেশে হামের এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আক্রান্ত শিশুদের অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন।

ডিআর