Image description

সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেসব গর্তে জমে যায় পানি, তৈরি হয় কাদামাটি। কোথাও কোথাও পানি জমে থাকে হাঁটুসমান। ঝুঁকি নিয়ে চলছে মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন। পথচারীদেরও পা ফেলতে হচ্ছে সতর্কভাবে। দীর্ঘদিন ধরে এমন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা রাজশাহী নগরীর ভদ্রা থেকে মেহেরচণ্ডি ফ্লাইওভার পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ভদ্রা রেলক্রসিং-সংলগ্ন মোড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, পেশাজীবী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে এ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

বৃষ্টিতে দুর্ভোগ বাড়ে কয়েকগুণ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে এসব গর্ত কোনোভাবে পার হওয়া গেলেও বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় কতটা গভীর, তা বোঝারও উপায় থাকে না।

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ভদ্রা ও আশপাশের এলাকায় বসবাস করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য নিয়মিত তাঁদের এ সড়ক ব্যবহার করতে হয়। একই সঙ্গে নগরীর এ অংশের বাসিন্দা ও পেশাজীবীদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ।

আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাফিউল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, “যেকোনো সময় এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। বৃষ্টি হলে কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে যায় এবং কাদামাটির সৃষ্টি হয়। তখন এই সড়ক দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।” জনসাধারণের দুর্ভোগ বিবেচনায় দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার দাবি জানান তিনি।

শুধু দুর্ভোগ নয়, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

মানববন্ধনে শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুন বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াইনি। নিরাপদ সড়ক ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতের দাবিতে এখানে দাঁড়িয়েছি।”

তিনি বলেন, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে দিন দিন বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা বা হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।

সানজিদা আরও বলেন, শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, এই সড়ক দিয়ে অনেক রোগীও যাতায়াত করেন। বেহাল সড়কের কারণে তাঁদেরও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

‘আশ্বাস নয়, দ্রুত সংস্কার চাই’

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে থাকলেও কার্যকর সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। শুধু আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতির মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনা বা হতাহতের ঘটনা ঘটার পর সংস্কারের উদ্যোগ না নিয়ে আগেই সড়কটি সংস্কার করতে হবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সড়কের গর্তগুলো দ্রুত মেরামতের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করে শিক্ষার্থী, রোগী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তাঁদের বক্তব্য, একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর সড়ক দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলে এর প্রভাব শুধু যান চলাচলেই সীমাবদ্ধ থাকে না; শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়ে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সড়কটির দুর্ভোগের অবসান চান তাঁরা।

এসএ