Image description

গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন খনিজ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৬ টার দিকে বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে জুলাই-২৪ গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি  উপলক্ষে স্মরণসভা ও আলোচনা সভায় তিনি অনলাইনে ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষকে শোষণ করেছে এবং তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। ছাত্র জনতা ও রাজনৈতিক নেতাদের সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এই গণঅভ্যুত্থান না হলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতো না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ আন্দোলন করেছে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খানের পতন এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এরশাদের পতন তার উদাহরণ। এসব আন্দোলনে ছাত্ররা নেতৃত্ব দিয়েছে। আন্দোলনের পর তারা আবার পড়াশোনায় ফিরে গেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অতীতের আন্দোলনগুলোর মতো এবারও ছাত্রদের আন্দোলনের পর নিজ নিজ কাজে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এবার কিছু ছাত্রনেতা সরকারে যোগ দিয়েছেন এবং পরে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। তাঁদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের কারণে গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে।

বিএনপির আন্দোলনের ভূমিকা তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতা কর্মীরা আন্দোলন করতে গিয়ে মামলা, হামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। তৃণমূল থেকে শুরু করে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাফল্যের পেছনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তা টিকিয়ে রাখাও জরুরি। এ জন্য সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সড়ক অবরোধ, বিশৃঙ্খলা ও মবের মতো পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশ গঠনে মনোযোগ দিতে হবে। স্বৈরাচারের পতনের পর দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আন্দোলনের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ইরান যুদ্ধসহ বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিক সংকট ও জ্বালানি সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ছাত্র জনতা, কৃষক শ্রমিকসহ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দেশের সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং দেশ গঠনের কাজে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আব্দুল বারী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. এম এ মুহিত। এ ছাড়া বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিআর