Image description

দেশে বড় ধরনের গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালের বিভিন্ন এলাকা প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল। এ ঘটনায় দেশের ১০টির বেশি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দেয়।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে গ্রিডে ত্রুটি দেখা দিলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি কমে যায়। দুপুর ২টার পর গ্রিড পুনরায় চালু হলেও রাত পর্যন্ত সব বিদ্যুৎকেন্দ্র স্বাভাবিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। এতে রাতেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং ছিল।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বিদ্যুৎ বিভাগ এখনো গ্রিড বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করতে পারেনি। ঘটনা তদন্তে পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকেও আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পিজিসিবি ও পিডিবির কর্মকর্তাদের ধারণা, মেঘনাঘাট-হরিপুর ও ভুলতা এলাকার গ্রিড লাইনে সমস্যার সূত্রপাত হতে পারে। এরপর আশুগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রিড লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়।

গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে মেঘনাঘাটের ৭০০ মেগাওয়াট, সামিটের ৩৩৫ মেগাওয়াট, চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ারের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট, পটুয়াখালীর আরএনপিএলের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটসহ বেশ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়।

কর্মকর্তারা জানান, দ্বৈত সার্কিট লাইন থাকায় ২০১৮ সালের মতো পুরো দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েনি। ওই বছর দেশের ইতিহাসে বড় ধরনের ব্ল্যাকআউট হয়েছিল।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তদন্তের পর গ্রিড বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এসএস