দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সোসাইটি অব অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অ্যান্ড হেড-নেক সার্জনস অব বাংলাদেশের বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ও এজিএম-২০২৬ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। হাসপাতালগুলোতে বিশেষ করে নার্সের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি টেকনিশিয়ান ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ এবং তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা দ্রুত করতে হবে।
তিনি বলেন, অনেক হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। এমনকি ডায়ালিসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবার যন্ত্রপাতিও লোকবলের অভাবে অব্যবহৃত পড়ে থাকে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি।
স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতেও বিপুল অর্থ ব্যয়ে যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর অনেকগুলো এখনো বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাই সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে হবে।
দেশের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ প্রকৃত অর্থে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেও অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আরও মানবিক ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে তিনি বর্তমান সরকারের ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি দেশের চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সদস্য-সচিব অধ্যাপক ডা. হাসান জাফর।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও চিকিৎসক নেতারা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
বিএইচ




Comments