এনসিপির সভায় হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জেডিপির, অস্ত্র নয়ছয় নিয়েও উদ্বেগ
এনসিপির সভায় হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, অনলাইনে অবৈধ অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। দলটির অভিযোগ, থানা থেকে অস্ত্র নয়ছয়ের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরের অসাধু চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।
নাঈম আহমাদ বলেন, সম্প্রতি এনসিপির সভায় হামলার ঘটনায় দলটি উদ্বিগ্ন। নাহিদ ইসলাম প্রশাসনের সহায়তার যে অভিযোগ করেছেন, তার পক্ষে তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে সরকারের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা।
তিনি বলেন, হামলায় কারা জড়িত ছিল এবং কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা তদন্ত করে বের করতে হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এনসিপিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক কিছু নেতাকর্মী যোগ দিয়েছেন। তাঁদের কেউ হামলায় সম্পৃক্ত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।
এনসিপির কিছু নেতার প্রতিশোধমূলক বক্তব্যের সমালোচনা করে জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, এ ধরনের ভাষা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র বিক্রির বিজ্ঞাপন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাঈম আহমাদ বলেন, বিভিন্ন অভিযোগ অনুযায়ী এসব অস্ত্রের মধ্যে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্রও থাকতে পারে। পাশাপাশি ওই সময়ের অজুহাতে থানা থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া বা নয়ছয়ের অভিযোগও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরের কোনো অসাধু চক্রের সহযোগিতা বা গাফিলতি ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটা কঠিন। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে নাঈম আহমাদ বলেন, চাঁদাবাজি, লুটপাট, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ বাড়ছে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে এর রাজনৈতিক সুবিধা আওয়ামী লীগ পেতে পারে, আর ক্ষতির শিকার হবে সাধারণ মানুষ।
সংবাদ সম্মেলনে জেডিপি পাঁচ দফা দাবি জানায়। এর মধ্যে রয়েছে—এনসিপির সভায় হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অনলাইনে অবৈধ অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে জেডিপির প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ, নির্বাহী পর্ষদ সদস্য ফুয়াদ জামান, শেহনাজ রশীদ খান এবং জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফ উপস্থিত ছিলেন।
মানবকণ্ঠ/এমআর




Comments