Image description

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন সারাদেশের নেতাকর্মীদের মন জয় করার মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর আসনে বসেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

তিনি বলেছেন, ‘একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি বাংলাদেশকে মনেপ্রাণে ধারণ করেন। তাঁকে আমি সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রবল উদ্দীপনা নিয়ে প্রতিবাদ করতে দেখেছি। আজকে মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁর জোরালো অবস্থান অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন লেখেন, “ইশরাক হোসেন একজন তরুণ উদীয়মান নেতৃত্ব। তিনি রাজপথে সংগ্রাম করে সারাদেশের নেতাকর্মীদের মন জয় করার মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর আসনে বসেছেন। একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি বাংলাদেশকে মনেপ্রাণে ধারণ করেন। তাঁকে আমি সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রবল উদ্দীপনা নিয়ে প্রতিবাদ করতে দেখেছি।”

তিনি বলেন, “আজকে মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁর জোরালো অবস্থান অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে মাদকসেবীদের আক্রমণের আশঙ্কার হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল বের করা নিয়ে অনেকে সমালোচনা করছে। আশা করি, এই সমালোচনাকেও ইশরাক ভাই সাধুবাদ জানাবেন এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে শুধরে নেবেন, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “তবে বাস্তবতা হলো, মাদকসেবীরা জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চেনে না, অনেক সময় মাদকের ঘোরে যেকোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারে। নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে, মাসখানেক আগে গাজীপুরে মাদক কারবারিরা পাথর ছুড়ে পুলিশকে আক্রমণ করে আসামি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। আমি মনে করি, আরও সচেতন থেকে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনতাকে সঙ্গে নিয়ে ইশরাক হোসেন ভাইয়ের আসনে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ অবশ্যই জনগণের কাছে প্রশংসনীয় হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, “তবে আজকের সমালোচনার বিষয়টুকু নিয়ে ইশরাক হোসেন ভাই স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি পুলিশকে খবর দিয়ে মাদকসেবীদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করেছেন এবং মাদকসেবীরা যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।”

রাশেদ খাঁন বলেন, “মাদক যেভাবে দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং ১৬ বছর ধরে পুলিশ-প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা ভূতদের অভিযান পরিচালনায় যেভাবে দুর্বলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তখন জনগণের কাছে মাদকের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিরোধের বিকল্প খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে, তিনি ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থেকে জনদাবি আদায়ে কাজ করবেন বলে আমার ধারণা।”

প্রসঙ্গত, পিস্তল হাতে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে ছয়জনকে আটক করা হয়। তবে অভিযানের সময় সংসদ সদস্যের অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এমআর