Image description

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে গণপিটুনি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১১ জুন) রাত সাড়ে দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এসময় ওই পুলিশ সদস্যের কাছে একটি নকল ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, নিরাপত্তা শাখা এবং আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ও এএসপির (সার্কেল) উপস্থিতিতে অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

অভিযুক্ত মো. মেহমুদ হারুন (২৫) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত। অভিযুক্ত হারুন বিবাহিত এবং সাভারের রাজাসনের স্থায়ী বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, রাত দশটার দিকে আমি বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনে দিয়ে এমএইচ হলের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম। তারা দুইজন আমার পথরোধ করে। আপনি জঙ্গলে যাবেন? এদিক ওদিক জায়গা আছে। আপনি আমাদের সাথে সময় কাটাবেন? বলে দুইজনে আমাকে সামনে পিছনে ঘিরে ধরে। এরমধ্যে একটি খালি রিকশা সেখানে আসলে আমি রিকশায় উঠি। তারা রিকশা থামিয়ে ফোন নাম্বার নেয়ার জন্য জোরাজুরি করে। পরবর্তীতে রিকশা নিয়ে এমএইচ গেটের সামনে আসলে আমি চিল্লাচিল্লি শুরু করলে তারা দৌঁড় দেয়। উপস্থিত ছাত্রদের সহযোগিতায় একজনকে ধরতে পারলেও, অন্য একজন পালিয়ে যায়।

অভিযুক্ত হারুন ঘটনা স্বীকার করে তার সহযোগী সম্পর্কে জানান, তার নাম বিদ্যুৎ চৌধুরী (২৩)। তার এলাকার পরিচিত ছোটভাই। সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। 

অভিযুক্ত হারুন বলেন, আমার ভুল ছিল শুধু আপুর নাম্বার চাওয়া। আর আমার ঐ ছোটভাই আপুকে কু-প্রস্তাব দেয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান সুদীপ্ত শাহিন বলেন, অভিযুক্ত প্রাথমিকভাবে তার দোষ স্বীকার করেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় বাদি হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। অভিযুক্তকে আশুলিয়া থানায় সোপর্দ করেছি।

আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি অবহিত হয়েছি। সে যা করেছে তা আমাদের পুলিশ বাহিনীর জন্য অসম্মানের। অফ ডিউটিতে থাকাকালীন সে নকল ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ ব্যবহার করেছে, যা আইনত অবৈধ। তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুজু করা ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা হবে।