ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর সাম্প্রতিক নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিজয় কোনো ‘মাস্টারপ্ল্যানের’ অংশ কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
নির্বাচনের ‘অনিয়ম’ ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’
রিজভী সদ্য সমাপ্ত এই দুটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে হাতে লেখা ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি এটিকে 'অনিয়ম' বা 'মেকানিজম' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর উদ্দেশ্য ছিল একটি ছাত্র সংগঠনকে বিজয়ী করা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্যালট পেপার একটি বেসরকারি প্রেস থেকে ছাপানো হয়েছে, যার মালিকের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক রয়েছে। একই ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিএনপি নেতা বলেন, এই নির্বাচনগুলো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে, যা ধরা পড়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সমালোচনা করে বলেন, তিনি এমন নিয়ম তৈরি করেছেন যাতে বাইরের কেউ (সাবেক শিক্ষার্থীরা) নির্বাচনে আসতে না পারে, যা একটি 'একচেটিয়া নির্বাচন' নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা ছিল।
রাজনৈতিক ‘মাস্টারপ্ল্যান’ এবং গণতন্ত্রের বিপদ
রুহুল কবির রিজভী প্রশ্ন তোলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তিকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি গভীর 'নীল নকশা' বা 'মাস্টারপ্ল্যান' তৈরি করা হয়েছে কিনা। তিনি মনে করেন, এই ধরনের প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।
তিনি বলেন, 'ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত পর্যায় হলো উগ্র সাম্প্রদায়িকতা এবং উগ্র ধর্মীয় রাজনীতি'। এই ধরনের পরিবেশ তৈরি হলে তা সমাজের জন্য আরও বড় সর্বনাশ বয়ে আনবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ছাত্রশিবিরের সমালোচনা এবং অপপ্রচার
রিজভী ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করে বলেন, 'যারা ছাত্রলীগের নেতা সেজে ক্যাম্পাসে অবস্থান করেছেন, হেলমেট পরে গণতন্ত্রের কর্মী, ছাত্রদলসহ অন্যান্য দলের কর্মীদের আঘাত করেছেন, আবার শেখ হাসিনার পতনের পর আসল রূপ নিয়ে যারা ছাত্র শিবির হয়ে গেলেন, এই ঘটনা আজকে জনগণের কাছে উন্মোচিত হয়ে গেছে।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জামায়াত-শিবির অত্যন্ত গোপনে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। একইসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু গণমাধ্যমও তাদের সঙ্গে মিলে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়।
‘আওয়ামী লীগারদের ঠাঁই হচ্ছে জামায়াতে’
গত বছরের ৫ আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, দলের অনেক নেতা আত্মগোপনে আছেন বা বিদেশে চলে গেছেন। এই পরিস্থিতিতে রিজভী দাবি করেন যে, আওয়ামী লীগের নিপীড়নকারী ও নির্যাতনকারী নেতাকর্মীরা এখন জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, এর প্রমাণ ও ডকুমেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় রিজভী প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তাদের সংগঠনে 'ফ্যাসিবাদের দোসররা' প্রবেশ করতে না পারে।




Comments